Followers

Tuesday, December 20, 2016

বেদনা সমুুদয় জ্ঞান



  বেদনা কি সত্য? দুঃখ সত্য। এই সত্য হচ্ছে বিদর্শনের মূল বিষয়। দুঃখকে দুঃখরূপে জানতে না পারলে সমুদয় সত্য অবিদ্যা ও তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়। আর এই সমুদয় সত্যই পুনঃপুনঃ দুঃখ সত্যকে উতপন্ন করে। সে জন্য বিদর্শন ভাবনা বা চিত্তের একাগ্রতা অনুশীলন করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দুঃখ সত্যকে যথাভূতভাবে জেনে নেওয়া। সমুদয় সত্য বিদর্শন ভাবনা অনুশীলনের বিষয় নয়।কারণ সমুদয় সত্য প্রহাণতব্য বিষয় বা ধর্ম। কিন্তু বেদনা যে দুঃখ সত্য তা সাধকগণ কিভাবে জানেন, সাধক যখন সম্যক স্মৃতি অনুশীলনে রত থাকেন, তখন তিনি জানেন যে, ছয়টি স্থানের মধ্যে যে কোন একটি স্থানে স্পর্শের কারণে বেদনা একমূহুর্তও স্থিতি থাকেনা- উৎপন্ন হওয়ার সাথে সাথে বিলয় প্রাপ্ত হচ্ছে। সে জন্য বলা হয়েছে "উপ্পাদ বয় পটিপীলিনাত্থায় " অর্থাৎ এই উদয় -বিলয় ধর্মই সত্ব জীবগণকে প্রতিনিয়ত প্রপীড়ন বা দুঃখ প্রদান করে। এ কারণে উদয় বিলয় ধর্মকেই "দুঃখ" বলা হয়।
           কিন্তু দেখা যায়, অনেক সাধকই আছেন যারা স্মৃতি অনুশীলনকালীন সময়ে পায়ে ব্যথা কোমরে ব্যথা, মাথা ব্যথা ও ঝিনঝিন করে এবং সর্বাঙ্গে উৎপন্ন ব্যথাকেই দুঃখ সত্যরূপে জানেন। তারা এই ব্যথাকে অনেক ধৈর্য্য -সহ্য করে ঘণ্টা দু'য়েক বসে থাকার পর পরবর্তীতে দেখা গেল কোন ব্যথা বেদনা আর নেই।
দেহটা একেবারেই হালকা পাতলা হয়ে গেল- যেমনটি শূণ্যমার্গে ভাসমান তুলার ন্যায় অনুভব হচ্ছে। এই অবস্থা সাধকের অত্যন্ত স্বস্তিকর ও আরাম দায়ক- যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাবনার আসনে বসে থাকলেও কোন অস্বস্তিকর বোধ হয় না। সাধক তখন মনে করেন যে, ব্যথাকে আমি জয় করেছি, ব্যথা  আমার হাতে পরাস্থ। এই ভেবে তিনি অনেক আনন্দিত ও উৎফুল্ল হন। কিন্তু দেখা যায়, পরবর্তীতে ধ্যানে বসলে একই অবস্থা। অর্থাৎ ব্যথা আবার নতুনভাবে শুরু। এভাবে তিনি অনেক সময় ব্যথার প্রতি বিরক্ত হয়ে ধ্যান আসন হতে উঠে পড়েন এবং ভাবনার প্রতি অবশেষে অনিহার সৃষ্টি হয়।
    সে জন্য সাধকগণ জেনে রাখা ভাল যে, তিনি কোন দুঃখ নিয়ে বিদর্শন ভাবনা অনুশীলন করবেন। দুঃখ তিন প্রকার। যথা-দুক্খ দুক্খং, সঙ্খরা দুক্খং,  এবং বিপরিণাম দুক্খং।
১. দুক্খ দুক্খং:- নাম-রূপ দুঃখ সত্য হওয়া সত্তেও ক্ষুধার কারণে, পিপাসার কারণ, শীত-উষ্ণতার কারণে অথবা একই স্থানে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে দাঁড়িয়ে থাকলে, বা শুয়ে থাকলে দেখা যাবে কোমরে ব্যথা, মাথায় ঝিনঝিন করা ও সর্বাঙ্গে বেদনা উৎপন্ন হওয়াকেই দুক্খ দুক্খং বা দুঃখ দুঃখতা বলে।
২.সঙ্খরা দুক্খং:- নাম-রূপ পঞ্চস্কন্ধ সর্বদা উদয় বিলয়ধর্মী। আর এই উদয় বিলয় জনিত যে প্রপীড়ন বা দুঃখ তাকেই সঙ্খরা দুঃখতা বলে।

৩. বিপরিণাম দুকখং:- বৃদ্ধ, রোগগ্রস্থ, দৈহিক অক্ষম হওয়া, চুল পাকা, দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়া, লোলচর্মা হওয়া  দন্তপতন ইত্যাদি ইত্যাদি বিপরীত হওয়ার দরুণ যে দুঃখ তাকেই বিপরিণাম দুঃখতা বলে।
 দুখ মুক্তিকামী সাধকগণ  যদি উপরোক্ত তিন প্রকার দুঃখের মধ্যে থেকে দুঃখ দুঃখতা ও বিপরিণাম দুঃখতা, দিয়ে বিদর্শন ভাবনা অনুশীলন করেন, তাহলে বিদর্শন মার্গ জ্ঞান উৎপন্ন হবে না। এবং শ্বাশত দৃষ্টি, উচ্ছেদ দৃষ্টি ও সৎকায় দৃষ্টিকেও প্রহান করতে পারবেনা। কেবলমাত্র "সংবেগময় জ্ঞান" লাভী হবেন। তাই বিদর্শন ভাবনাকে দুঃখময় ভাবে উপলব্ধি করার প্রয়াস থাকতে হবে।

No comments:

Post a Comment