Followers

Saturday, June 17, 2017

তোমরা দুঃখ পেলেও অপরের অনিষ্ট কামনা করবে না

                              তোমরা দুঃখ পেলে অপরের অনিষ্ট কামনা করবে না
এক সময় পরম পূজ্য অর্হৎ বনভান্তে মহোদয় রাজবন বিহার দেশনালয়ে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ দানানুষ্ঠানে সমবেত দায়ক-দায়িকাদের উদ্দেশ্যে ধর্মদেশনা প্রদানকালে বলেন—সুখ দুই প্রকার, স্বল্প সুখ ও বিপুল সুখ। তোমরা স্বল্প সুখ পরিত্যাগ করতঃ বিপুল সুখের প্রত্যাশী হয়ে অবস্থান কর। যাদের জ্ঞান থাকে বা যারা জ্ঞানী তারা স্বল্প সুখ ত্যাগ করে বিপুল সুখের প্রত্যাশী হয়। কিন্তু যারা অজ্ঞানী, মূর্খ তারা স্বল্প মাত্র সুখ ত্যাগ করতে পারে না। বুদ্ধ ধর্মপদে বলেছেন—যদি স্বল্প মাত্র সুখ পরিত্যাগ হেতু বিপুল সুখের সম্ভাবনা দেখা যায়, তবে জ্ঞানী ব্যক্তি বিপুল সুখের সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে সামান্য সুখ ত্যাগ করবে। মারভুবনে ধর্ম করলে যেই সুখ হয় তা’ স্বল্প সুখ। তোমরা সেই স্বল্প বা সামান্য সুখ করতে গিয়ে অধিক পরিমাণ দুঃখ ভোগ করতেছ। মারভুবনে শতকরা একভাগ মাত্র সুখ বাকী নিরানব্বই ভাগ দুঃখ ভোগ করতে হয়। সেই দুঃখে একে অপরের সহিত ঝগড়া-কলহ, হিংসাহিংসি, রেষারেষি, মারামারি সহ নানা অনাচার-অত্যাচারাদি, অপকর্মে নিয়োজিত রয়েছ। বিপুল সুখ কাকে বলে? অমারভুবন বা নির্বাণরাজ্যকে বলা হয় বিপুল সুখ। নির্বাণরাজ্যে গেলে বিপুল সুখ উপলব্ধি হয়। সেই সুখের চ্যুতি বা মরণ নেই-তা’ অমর। অন্যদিকে, মাররাজ্যের সামান্য সুখ করলে দুঃখ পেতে হয়, মৃত্যুবরণ করতে হয়। তাই আমি বলি কি জান? তোমরা মাররাজ্যের সেই সামান্য সুখ করবে না। সামান্য সুখ করলে তোমাদেরকে বর্ণনাতীত দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হবে। সংসারের দৈনন্দিন ঘাত-প্রতিঘাতের দুঃখে জর্জরিত হয়ে থাকে তোমাদের জীবন। স্বামী-স্ত্রীতে দুঃখ, পিতা-পুত্রে দুঃখ, মাতা-কন্যায় দুঃখ, ভাইয়ে-ভাইয়ে দুঃখ, বোনে বোনে দুঃখ, পাড়া-প্রতিবেশীতে দুঃখ, আত্মীয়-স্বজনে দুঃখ, বন্ধু-বন্ধুতে দুঃখ ভোগ করতে হয়। কি ঠিক বলেছি তো? হ্যাঁ, ভান্তে ঠিক। এরূপেই দুঃখ পেয়ে চলছি। তোমরা সামান্য সুখ করতে গিয়েই এই দুঃখগুলো পাচ্ছো। তোমরা হয়ত মনে করতেছ আমরা গরিব বলে এ’দুঃখগুলো পাচ্ছি, ধনী লোকেরা সুখেই রয়েছে, তাদের দুঃখ নেই। আবার, অনেকেই বলে ধনী রাষ্ট্রের অধিবাসীরা যেমন—জাপানীরা, আমেরিকানরা সুখেই আছে, তাদের কোন প্রকার অভাব-অনটন, অপ্রাপ্তি.....দুঃখ নেই। তারা কতোই না সুখে রয়েছে। আমাদেরকে যতো দুঃখ পেতে হচ্ছে। কিন্তু এসব কথা মোটেই ঠিক নয়। তাদেরকে হয়ত তোমাদের মতন অভাব-অনটনের দুঃখ পেতে হচ্ছে না, তাই বলে তারা কিছুতেই দুঃখের অতীত নন। তারাও দুঃখের মধ্যেই রয়েছে। দুঃখের ধরণগুলোর মাঝে ভিন্নতা রয়েছে, এটুকু মাত্র তফাৎ। এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, মারভুবনের মধ্যে থাকলে দুঃখ অনিবার্য। মাররাজ্যের মধ্যে অকুশলের প্রতি বিশেষ আকর্ষণে তোমরা যে, কলহ-বিবাদ, মারামারি, কাটাকাটি করতেছ সেগুলো কি জান? সেগুলো পাপের সুখ। অকুশলকর্ম সম্পাদনের ফলে যে সাময়িক ও সামান্য সুখের প্রতীতি জন্মে তা’ পরমুহুর্তে অশেষ দুঃখে পরিণত হয়। অজ্ঞানী ব্যক্তিরা সাময়িক সুখের লোভ সংবরণ করতে না পেরে অকুশলকর্ম সম্পাদন করতঃ নিজের জন্য অশেষ দুঃখ-কষ্ট, অশান্তি ডেকে আনে মাত্র। অজ্ঞানী ব্যক্তিরা এটা জানে না বলে সাময়িক সুখের লোভে পাপকর্ম সম্পাদন করে। কিন্তু তারা যদি জানত যে এই সাময়িক সুখের পরিণামে তাদেরকে অশেষ দুঃখ যাতনা ভোগ করতে হবে তাহলে তারা সাময়িক সুখ করা হতে বিরত থাকত।
পূজ্য বনভন্তে

এবার বনভান্তে বলেন—তোমাদের সামান্য সুখ ভোগ করাটা কি রকম হচ্ছে জান? উপমা কথা-ধর, ঘরের কোন এক কোণায় একটি মধুপূর্ণ বাটি রয়েছে। এদিকে একদল পিঁপড়া খাবার খোঁজে গর্ত হতে বের হয়ে ইতস্ততঃ ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ মধুর গন্ধ পেল। সেই গন্ধ ধরে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হতে বাটির সন্নিকটে এসে পড়ল। আর বাটিপূর্ণ মধু দেখে মধু পান করার লোভ পেয়ে বসল। সঙ্গে সঙ্গে পিঁপড়াগুলো মধু পান করার জন্য লাইন ধরে একের পর এক মধুবাটিতে ঝাঁপ দিতে লাগল। যেই পিঁপড়া মধু বাটিতে ঝাঁপ দিচ্ছে অমনি আর উঠে আসতে পারছে না, সেখানে তার মৃত্যু হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, পূর্বগামী পিঁপড়াগুলোর এই করুণ পরিণতি দেখেও পশ্চাদগামী পিঁপড়াদের ভয় জাগ্রত হচ্ছে না, ভাবোদয় হচ্ছে না। তারাও নির্ভীক চিত্তে মধু পান করার লোভে মধু বাটিতে ঝাঁপ দিচ্ছে আর প্রাণ হারাচ্ছে। ঠিক তদ্রূপ তোমরাও পিঁপড়াদের মতন সুখ করতে গিয়ে ইহকাল-পরকালের জন্য মহাদুঃখ, মহা অশান্তিই ডেকে আনতেছ। সেই সামান্য সুখের কারণে ইহকালে যেমন অশেষ দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে, তেমনি মৃত্যুর পরও চারি অপায়ে পতিত হয়ে বর্ণনাতীত দুঃখ ভোগ করতে হবে। বনভান্তে বলেন—আচ্ছা, পিঁপড়াদেরকে মধু বাটিতে ঝাঁপ না দেয়ার জন্য বারণ করা যাবে কি? ভান্তে, বারণ করা যাবে না। কারণ করলেও তারা তো বুঝতে পারবে না। আমিও তোমাদেরকে সেভাবেই বারণ করতে পারছি না। বারণ করলেও তোমরা বুঝতে পার না। যার ফলে তোমাদেরকে সামান্য সুখ ভোগ করা হতে বিরত রাখতে পারছি না। আবার, তোমরা স্বামী-স্ত্রী হয়ে যে সাংসারিক জীবন-যাপন করতেছ এটাও সামান্য সুখ। সেই সামান্য সুখের পিছনে কতো প্রকার দুঃখ নিহিত রয়েছে তার অন্ত নেই। যেমন—স্বামী মরতে পারে, স্ত্রী মরতে পারে, পুত্র মরতে পারে, কন্যা মরতে পারে, পুত্রবধূ মরতে পারে, জামাই মরতে পারে, নাতি মরতে পারে, নাতনি মরতে পারে। পারে নয় কি? হ্যাঁ ভান্তে, পারে। আর তখন তো দুঃখ শোকের ইয়ত্তা থাকে না। আমি সেরূপ দুঃখ শোকে মূহ্যমান হয়ে বহু বৃদ্ধ লোককেও উচ্চশব্দে, মহাশব্দে বিলাপ করতঃ ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখেছি।
পূজ্য বনভান্তে বলেন—নিজকে নিজে উদ্ধার করতে পারলে, নিজকে নিজে দমন করতে পারলে তবেই সুখ লাভ হবে। কিভাবে নিজকে উদ্ধার করতে হয়? ‘আমি আর কখনো পাপকে নিয়ে সুখ করব না’ বলে পাপ হতে বিরত থাকলে নিজকে উদ্ধার করা সম্ভব। পাপকে নিয়ে সুখ করলে নিজকে উদ্ধার করা যায় না। অহং মনোভাব নিয়ে কোন কিছু করলে, অপরের উপর কর্তৃত্ব খাটালে নিজকে দমন করা যায় না। অন্যদিকে বুদ্ধ বলেছেন, নিজে উদ্ধার হলে অপরকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়। আর নিজে উদ্ধার হতে না পারলে অপরকে উদ্ধার করা কখনো সম্ভব নয়। আমার সাথে বলো “আমরা আর পাপকে নিয়ে সুখ করব না”। তা হলে নিজকে উদ্ধার করতে পারবে। কিভাবে পাপকে নিয়ে সুখ করবে না? প্রাণীহত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যাবাক্য ও নেশাদি দ্রব্য সেবন তথা পঞ্চশীল ভঙ্গ না করা সহ যাবতীয় অন্যায়, অপরাধ, অকুশলকর্ম সম্পাদন করা হতে নিজকে বিরত রেখে। এবং স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, নিয়ে সাংসারিক সুখ ভোগে প্রমত্ত না হয়ে। এভাবে পাপকে নিয়ে সুখ না করলে নিজকে উদ্ধার করতে পারবে বলে জানবে। আমি বা অহংকার করা হতে বিরত থাকলে নিজকে দমন করা যায়। মনে রাখবে, নিজকে উদ্ধার ও নিজকে দমন করাই সুখ। নিজকে উদ্ধার এবং দমন করতে না পারলে দুঃখ পেতে হয়। আমি বনভান্তে নিজকে উদ্ধার, নিজকে দমন করতে পারছি বলে, পরম সুখের অধিকারী হয়েছি; আমার আর কোন দুঃখ নেই। তোমরা নিজকে উদ্ধার, নিজকে দমন করতে পারছ না বলে অসহ্য দুঃখ যন্ত্রণায় মুহ্যমান হয়ে রয়েছ। এক মুহুর্তকালও তোমাদের সুখ লাভ হচ্ছে না।
তোমরা কেন দুঃখ পাচ্ছো জান? তোমাদের লজ্জা নেই বলেই তোমরা দুঃখ পাচ্ছো। কি রকম লজ্জা? প্রাণীহত্যা করতে লজ্জা পাচ্ছো না। চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাসী-মাস্তানী, চাঁদাবাজি-ছিনতাই করতে লজ্জা পাচ্ছো না। ব্যভিচার বা পরস্ত্রী/পরকন্যা হরণ করতে লজ্জা পাচ্ছো না। মিথ্যা-কটু-ভেদ-বৃথা বাক্যালাপ করতে লজ্জা পাচ্ছো না। মদ-গাঁজা-আফিং-হেরোইন সহ যাবতীয় নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করতে লজ্জা পাচ্ছো না। কলহ-বিবাদ, মারামারি, কাটাকাটি, খুনাখুনি করতে লজ্জা পাচ্ছো না। অন্যায়-অবিচার, দুর্নীতিমূলক, অকুশলমূলক কর্ম সম্পাদন করতে লজ্জা পাচ্ছো না। আমার স্বামী, আমার স্ত্রী, আমার পুত্র, আমার কন্যা, আমার আত্মীয়-স্বজন বলে মিথ্যা দাবি করতে লজ্জা পাচ্ছো না। এই সকল অলজ্জী কাজগুলো করতেছ বলে তোমরা দুঃখ পাচ্ছো, অশেষ দুঃখ ডেকে আনতেছ এবং দুঃখ হতে নিজকে বিমুক্ত করতে সমর্থ হচ্ছো না। আমার সাথে বলো ‘আমাদের লজ্জা নেই বলে আমরা দুঃখ পাচ্ছি’। তোমাদের লজ্জা নেই বলে তোমরা নির্দ্বিধায় ‘আমার স্বামী’, ‘আমার স্ত্রী’, ‘আমার পুত্র’, ‘আমার কন্যা’, ‘আমার আত্মীয়-স্বজন্তু, ‘আমার ধন’, ‘আমার বাড়ী’, ‘আমার জায়গা-জমি’ বলতে থাক। আর সেই জন্য তোমাদেরকে কতো প্রকার দুঃখই না সহ্য করতে হচ্ছে। যদি তোমাদের লজ্জা থাকত তাহলে ‘আমার স্বামী’, ‘আমার স্ত্রী’, ....বলতে না। আর দুঃখ ভোগও করতে হতো না। দুঃখ হতে অব্যাহতি পেয়ে যেতে। মানুষের যেখানে নিজের উপরই অধিকার নেই, সেখানে অপরজনকে আমার বলার অধিকার কিরূপেই থাকতে পারে? তাই স্বামী, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, ধন কোনটাই মানুষের প্রকৃত আপন হতে পারে না। তোমরা অজ্ঞান বলে সেই মিথ্যাকে সত্য মনে করে দুঃখ পাচ্ছো সার। এতে তোমাদের ইহ-পর কোন কালের জন্য সুখ, মঙ্গল সাধিত হচ্ছে না।
শ্রদ্ধেয় ভান্তে বলেন—চাকমা কথায় ‘তুমি দুগ পেলে কার’ মাধাহ্‌ হে ন’ দুঅ। মান্‌চ্যে দুগ পেলে এগজনর মাধাহ্‌ হে দে-দি গরন’। অর্থাৎ তোমরা দুঃখ পেলে কারোর অমঙ্গল, অনিষ্ট কামনা করবে না। অনেকে নিজের দুঃখের জন্য অপরকে দায়ী করতঃ অপরের অমঙ্গল কামনা করে থাকে। ভগবান বুদ্ধ বলেছেন, নিজে দুঃখ পেলে অপরের অমঙ্গল কামনা করবে না। তখন এরূপ বলবে আমি দেহধারণ করেই দুঃখ পাচ্ছি, জন্মগ্রহণ করেই দুঃখ পাচ্ছি। দেহধারণ না করলে দুঃখ পেতাম না, জন্মগ্রহণ না করলে দুঃখ পেতাম না। নিজে দুঃখ পেলে অপরের অমঙ্গল কামনা করলে পাপ হয়। কাজেই নিজে দুঃখ পেলেও অপরের অমঙ্গল কামনা করবে না। আমার সাথে বলো ‘আমরা নিজেরা দুঃখ পেলেও অপরের অমঙ্গল কামনা করব না। আগে অপরের অমঙ্গল কামনা করলেও এখন হতে আর করব না’। তাহলে তোমাদের পাপ হবে না এবং দুঃখও হ্রাসপ্রাপ্ত হবে। তোমরা সর্বদা অকুশলকর্মের প্রতি লজ্জাশীল হয়ে অবস্থান কর। যারা অকুশলকর্মের প্রতি লজ্জাশীল, তাদের দ্বারা অকুশলকর্ম সম্পাদনের কোন সুযোগই থাকে না। অকুশলকর্ম সম্পাদনে তোমরা লজ্জাশূন্য বলে একের পর এক অকুশলকর্ম সম্পাদন করেই যাচ্ছ। যদি লজ্জা শরম থাকত তাহলে এসব করতে পারতে না। চাকমা সমাজে একটা কথা চালু রয়েছে ‘লাজঅ নেই, পাজঅ নেই হ্‌লে ন পারে’। অর্থাৎ যাদের লজ্জা শরম নেই তাদের দ্বারা অকরণীয়, অকথনীয় বলে কিছুই নেই। তোমাদের অলজ্জী হওয়াটা কি রকম জান? উপমা কথা-কোন একটা স্থানে বিশজন মানুষ বিবস্ত্র অবস্থায় লাফালাফি করতেছে। তোমরা কয়েকজন কোথাও যাবার পথে হঠাৎ তাদের সাথে মুখোমুখি হয়ে গেলে; তাদেরকে সে অবস্থায় দেখে তোমাদের মনে কৌতুহল জাগল, আমরাও তাদের মতন হয়ে লাফালাফি করব কি? অন্যদিকে তারাও তোমাদেরকে তাদের মত বিবস্ত্র হয়ে লাফালাফি করতে বার বার ডাকতেছে, উৎসাহিত করাচ্ছে। কি আর করা? শেষমেশ তোমরাও তাদের মতন হয়ে লাফালাফি শুরু করে দিলে-অনায়াসে। ঠিক তদ্রূপ, আমি দেখতেছি বাংলাদেশের (প্রায়) সব মানুষই বিবস্ত্র হয়ে লাফালাফি করতেছে। আর তোমরাও তাদেরকে দেখে বিবস্ত্র হয়ে লাফালাফি শুরু করে দিয়েছ। বাস্তবিক, সঙ্গী না পেলে একা একজনের পক্ষে খুব বেশি পাপ করা সম্ভব হয় না। বর্তমান সময়ে তোমরা পাপকর্ম সম্পাদন করতে সঙ্গী পেয়েছ বলে একের পর এক পাপকর্ম সম্পাদন করেই চলেছ। সঙ্গী না পেলে এতো পাপকর্ম সম্পাদন করতে সমর্থ হতে না। আবার, এ পাপকর্ম কেন সম্পাদন করতেছ জান? তোমাদের চিত্তে জ্ঞান উদয় হচ্ছে না বলে। জ্ঞান উদয় হলে কেহ পাপকর্ম সম্পাদন করতে পারে না। বলা যায়, যে দিন তোমাদের চিত্তে জ্ঞান উদয় হবে সেদিন আর পাপকর্ম সম্পাদন করবে না। এমন কি অন্যজনকে পাপকর্ম সম্পাদনে নির্দেশ প্রদান, উৎসাহ দান এবং অনুপ্রাণিত করেও কিছুতেই পাপকর্ম সম্পাদন করাবে না। সর্বোপরি নিজকে সব ধরণের খারাপ, মন্দ, পাপকাজ হতে বিরত রেখে ভালো, সৎ ও কুশলের মধ্যে নিয়োজিত করতে সচেষ্ট হবে।
পরিশেষে তিনি বলেন—তোমরা আর পাপকে নিয়ে সুখ করবে না এবং চিত্তের মধ্যে ধর্মজ্ঞান, ধর্মচক্ষু উদয় করতে তৎপর থাকবে। আমার সাথে বলো ‘আমাদের চিত্তের মধ্যে ধর্মজ্ঞান, ধর্মচক্ষু উদয় হোক। সেই ধর্মজ্ঞান, ধর্মচক্ষু দ্বারা আমাদের অধঃপতন, চারি অপায় বন্ধ হোক; পরিশেষে পুনর্জন্ম বন্ধ হোক’। মনে রাখবে ধর্মজ্ঞান, ধর্মচক্ষু উদয় হলে অধঃপতন, চারি অপায় এবং পুনর্জন্ম বন্ধ হয়ে যায়, সর্বদা সুখ উপলব্ধি হয়। তোমাদের যদি ধর্মজ্ঞান, ধর্মচক্ষু অর্জিত হয় তখন সবই ঠিক হয়ে যাবে। অর্থাৎ তোমরা যাবতীয় অকুশল, পাপকর্মসমূহ পরিত্যাগ করবে। আমি আবারো বলছি, তোমরা অতি সহসা ধর্মজ্ঞান, ধর্মচক্ষু উদয় করতে তৎপর হও। ধর্মজ্ঞান, ধর্মচক্ষু উদয় না হলে অধঃপতনে পতিত হয়ে চারি অপায়ে পতিত হয়ে, পুনর্জন্ম হয়ে অজস্র দুঃখ-কষ্ট ভোগ করা ছাড়া অন্য গত্যন্তর থাকে না। কিছুতেই প্রকৃত সুখ লাভ হয় না। তাই আমার সাথে বলো ‘আমাদের ধর্মজ্ঞান, ধর্মচক্ষু উদয় হোক। যাতে আমাদের অধঃপতন না হয়; অবনতি না হয়, চারি অপায়ে পতিত হতে না হয়। এবং আমাদের ইহকাল-পরকাল সুখ হোক, উন্নতি হোক, শ্রীবৃদ্ধি হোক; পরিশেষে পুনর্জন্ম বন্ধ হোক’।

সাধু, সাধু, সাধু

No comments:

Post a Comment