Followers

Wednesday, December 21, 2016

রূপাবচর চিত্তের পরিক্রমা

 রূপাবচর চিত্ত ধ্যান- চিত্ত। শুধুমাত্র ধ্যানকামীগণ এই চিত্তকে অনুশীলন করেন। কামাবচর কুশল চিত্তকে কীরূপে রূপাবচর ধ্যান-চিত্ত উন্নীত করা যায় তাহাই অতি সংক্ষেপে আলোচনা করা যাক। শুধু বিশুদ্ধ জলই যেমন মেঘে পরিণত হইতে ও উন্মুক্ত বাতাসে বিচরণ করতে পারে, তেমনি শীল বিশুদ্ধ চিত্তই ধ্যান-চিত্তে উন্নমিত হতে ও শান্তিতে বিচরণ করিতে সক্ষম হয়। যেহেতু শীল সম্পন্ন জনই সব সময় মনের দিক দিয়ে পরিস্কার থাকেন। সেজন্য এই ধ্যানচিত্ত তাঁহাদের সহজে লাভ করা যায়। যিনি রূপ-চিত্ত বা ধ্যান চিত্ত উৎপন্ন ও গঠন করিতে সঙ্কল্প করেন, তাঁহাকে অতি সাবধানে ন্যূনকল্পে পঞ্চশীল পালন করতে হয়; এবং তাঁহার নির্জ্জন বিহারী হওয়া, অন্ততঃ সাময়িক নির্জ্জনতা, আবশ্যক। বাস-গৃহ,জনিত, জ্ঞাতি-পরিজন- জনিত, সাংসারিক লাভ-ক্ষতি, জনতা, কার্য্যভার,দদেশ ভ্রমণ, শারীরিক ব্যাধি ও গ্রন্থাদি জনিত বাধা, উৎকণ্ঠা পরিত্যাগ আবশ্যকতা খুবি আছে।তৎপর তিনি উপযুক্ত  গুরুর পরামর্শানুযায়ী তদভাবে স্বীয় চরিতানুযায়ী কর্ম্মস্থান=নির্ব্বাচন করিবেন। কর্ম্মস্থান=ভাবনা কর্ম্মের আলম্বন বা বিষয়।
                নির্বাচিত কৃৎস্নে বা আলম্বনে স্থিরদৃষ্টি আবদ্ধ করে একাগ্রতার সহিত উহা চিত্তে মুদ্রিত করিতে পুনঃপুনঃ চেষ্টা করতে হয়; তৎপর সময়ে এমন এক অবস্থা উৎপন্ন হয়, যখন ঐ আলম্বন উন্মীলিত নেত্রে বা নিমীলিত নেত্রে সমপরিমাণে সুস্পষ্ট হয়। ঐ চর্ম্ম চক্ষু দৃষ্ট আলম্বনের নাম  "পরিকর্ম্ম "নিমিত্ত ; এবং এই মনচক্ষু দৃষ্ট আলম্বনের নাম "উৎগ্রহ নিমিত্ত" উৎগ্রহ অর্থ মনোগ্রহীত। মনের বিশেষ পদ্ধতিতে দর্শন কার্য্য। এই উৎগ্রহ নিমিত্তে চিত্তকে একাগ্রতা করিতে করিতে সময়ে এমন এক অবস্থা উৎপন্ন হয় যেন, ঐ নিমিত্তের অভ্যন্তর হইতে এক নির্ম্মল, উজ্জল  আকার বহির্গত হহচ্ছে বলিয়া ধারণা হয়। এই অবস্থাপন্ন নিমিত্ত "প্রতিভাগ নিমিত্ত"।  পরিকর্ম্ম ও উৎগ্রহ নিমিত্ত লইয়া যে ধ্যান তাহা "পরিকর্ম্ম ধ্যান"।  অকম্পিত "প্রতিভাগ নিমিত্ত" লইয়া যে ধ্যান তাহা "উপাচার -ধ্যান"।
     প্রতিভাগ নিমিত্তের উৎপত্তির সঙ্গে সঙ্গে চিত্তের পঞ্চ নীবরণ স্তম্ভহীন গৃহের দশাপ্রাপ্ত হয়। এখানেই উপচার বা কাম-লোকের ধ্যান-চিত্তের আরম্ভ হয়। এই উপচার ধ্যানের চিত্ত কামাবচরের " সৌমনস্য সহগত জ্ঞান সম্প্রযুক্ত কুশল চিত্ত"।  কিন্তু শুস্ক-বিদর্শক অর্হৎ হলে কামাবচরের "সৌমনস্য -সহগত-জ্ঞান সম্প্রযুক্ত-ক্রিয়া-চিত্ত।
এই উপচার ধ্যান-চিত্তের প্রথম জবনের পারিভাষিক নাম "পরিকর্ম্ম" অর্থাৎ ধ্যান-চিত্ত উৎপত্তির পূর্বাবস্থা বা প্রস্তুত হইবার চিত্ত। দ্বিতীয় জবন "উপচার" অর্থাৎ ধ্যান-চিত্তের সমীপচারী ক্ষণ বুঝায়। এই উপচারের পরবর্তী জবন "অনুলোম"। অনুলোম -চিত্ত-ক্ষণে চিত্ত সম্পূর্ণ নির্ম্মল হয়ে ধ্যান চিত্তে পরিস্ফুট হবার উপযুক্ত হয়। অনুলোমের পরবর্তী জবন "গোত্রভূ"।  এই গোত্রভূ জবন পর্য্যন্ত কামাবচরের "উপচার"ধ্যান।  এই গোত্রভূ জবনের পরবর্তী জবনই "অর্পণা জবন"।  এই অর্পণা জবনই রূপাবচরের ধ্যান-চিত্ত।  প্রতিভাগ নিমিত্তের উৎপত্তিতে কামচ্ছন্দ, ব্যাপাদ, স্ত্যানমিদ্ধ, ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য, বিচিকিৎসা,এই পঞ্চনীবরণ উত্থানশক্তি হীন হয় বলিয়া চিত্ত উপাচার -সমাধি প্রাপ্তত হয়। ধ্যানাঙ্গের উৎপত্তিতে অর্পণার উৎপত্তি হয়। বিতর্ক -বিচার-প্রীতি-সুখ-একাগ্রতা-ই ধ্যান চিত্তের মূখ্য অঙ্গ বা উপকরণ।
অর্পণা চিত্তের পূর্ণ একাগ্রতা ;ইহাই পূর্ণ ধ্যানের অবস্থা। রূপাবচর কুশল চিত্ত, এই প্রকারে সম্যক সমাধি দ্ধারা, শীলকে ভিত্তি করে সম্যক স্মৃতি, ও সম্যক ব্যায়ামের সাহায্যে উৎপন্ন করা যায়। এই রূপ চিত্তই কুশল গুর কর্ম্ম সম্পাদন করে। ইহাই রূপাবচর চিত্তের পরিক্রমা অনুসারে সংক্ষেপ বিবরণ করা হল।

No comments:

Post a Comment