Followers

Friday, February 24, 2017

পৃথিবীর মনুষ্যগণের অল্পায়ূর কারণ

পৃথিবীতে মনুষ্যগণের অল্পায়ু ও দীর্ঘায়ু হওয়ার কারণ
》 মনুষ্যগণের অল্পায়ু হওয়ার কারণ:
১. দীর্ঘ নিকায় ‘চক্কবত্তি-সীহনাদ’ সূত্রে বর্ণিত আছে, একসময় রাজা গরীরদেরকে ধনদান না করার ফলে বিপুল দারিদ্র্যের আবির্ভাব হল। তখন পুরুষ পরের দ্রব্য চুরি করতে আরম্ভ করল। একদিন সেই পুরুষকে রজ্জু দ্বারা বন্ধন করে রাজার নিকট উপস্থিত করাল এবং বলল, ‘দেব, এই পুরুষ পরের দ্রব্য যা অদত্ত তা হস্তগত করেছে। তখন রাজা তাকে জিজ্ঞেস করল হয় সত্য কিনা? সে পুরুষ স্বীকার করলে, রাজা তাকে ধনদান করল এবং বলল এই ধন দ্বারা আপনার জীবিকা নির্বাহ কর ও মাতাপিতা, স্ত্রী-পুত্রের ভরণ পোষণ কর এবং   শীলবান ব্যক্তিদের নিকট দান ধর্ম অনুশীলন করে স্বর্গ সম্পত্তি লাভ কর।
২. হে ভিক্ষুগণ, প্রজাগণ শুনল, ‘যারা পর দ্রব্য যা অদত্ত গ্রহণ করে, যা চৌর্য কথিত হয়, তাই করে, রাজা তাদেরকে ধনদান করছেন। তা শুনে তারা চিন্তা করল, ‘আমরাও অদত্ত দ্রব্য গ্রহণপূর্বক যা চুরি কথিত হয় তাই করব।’ অনন্তর ভিক্ষুগণ, জনৈক পুরুষ তাই করে ধৃত হয়ে রাজসমীপে আনীত হলে রাজা কর্তৃক জিজ্ঞাসিত হয়ে অপরাধ স্বীকার করল এবং বলল জীবিকা নির্বাহের জন্য অভাবে সে ঐ কর্ম করেছে।
৩. হে ভিক্ষুগণ, তখন রাজা চিন্তা করলেন, ‘যারা পরের দ্রব্য অপহরণ করবে, আমি যদি তাদেরকে ধনদান করি, তা হলে এই চুরি বৃদ্ধি পাবে। অতএব, এই পুরুষের আমি উপযুক্ত দন্ডের বিধান করব, উহার মূলোচ্ছেদ করব, উহার শিরচ্ছেদ করব।’ অতঃপর ভিক্ষুগণ, রাজা কর্মচারীগণকে আদেশ দিলেন, এই পুরুষের বাহুদ্বয় পশ্চাদ্দিকে শক্ত রজ্জু দ্বারা দৃঢ়রূপে বন্ধন করে নগরের দক্ষিণদিকে উহার প্রতি উপযুক্ত দন্ডের প্রয়োগ কর, উহার মূলোচ্ছেদ কর, উহার শিরশ্ছেদ কর।’
৪. হে ভিক্ষুগণ, প্রজাগণ শ্রবণ করল যে যারা পরদ্রব্য চুরি করে রাজা তাদের প্রতি উপযুক্ত দন্ডের বিধান করে তাদের শিরশ্ছেদ করছেন। তারা চিন্তা করল, ‘আমরাও তীড়্গ্ন অস্ত্রাদি (শস্ত্র) তৈরি করিয়ে যাদের দ্রব্য অপহরণ করব তাদের প্রতি তীব্র দন্ডের প্রয়োগ করব, তাদের মূলোচ্ছেদ ও শিরশ্ছেদ করব।’
তখন তারা সেই তীড়্গ্ন শস্ত্রাদি নির্মাণ করে গ্রাম ও নগর লুণ্ঠনে নিযুক্ত হল, দস্যুবৃত্তিতে রত হল। তারা যাদের দ্রব্য অপহরণ করল, উক্তানুযায়ী তাদের শিরশ্ছেদ সাধন করল।
৫. এরূপে, ভিক্ষুগণ, দরিদ্রকে ধনদানের অভাবে বড় দারিদ্রোর উৎপত্তি হল, দারিদ্র্যের বৃদ্ধি হলে চৌর্য বৃদ্ধি হল, চৌর্য বৃদ্ধি হলে প্রাণীহত্যা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হল, প্রাণীহত্যার বৃদ্ধিতে মিথ্যা বাক্যের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হলে মনুষ্যগণের আয়ু ও বর্ণ ড়্গীণ হল, আয়ু ও বর্ণ হ্রাসপ্রাপ্ত হলে অশীতি সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের সন্তান-সন্ততিগণ চল্লিশ (চত্বারিংশৎ) সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন হল। চত্বারিংশৎ (চল্লিশ) সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের মধ্যে একজন পুরুষ চুরি অপরাধ করল। ধৃত হয়ে সে রাজ সম্মুখে উপস্থিত হলে রাজা তাকে চুরি অপরাধের সত্যতা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তখন ঐ ব্যক্তি (অপরাধী) অপরাধ স্বীকার করল না, স্বেচ্ছায় মিথ্যা বলল।
৬. এরূপে, ভিক্ষুগণ, দরিদ্রকে ধনদানের অভাবে ব্যাপকভাবে দারিদ্র্যের আবির্ভাব হল, ক্রমে দারিদ্র্যে থেকে চুরি, চুরি থেকে প্রাণীহত্যা, প্রাণীহত্যা থেকে মিথ্যা বাক্যের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হলে মনুষ্যগণের আয়ু ও বর্ণ ড়্গীণ (কম) হলে, আয়ু ও বর্ণ লঘু হলে চত্বারিংশৎ (চল্লিশ) সহস্র (হাজার) বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের সন্তান-সন্ততিগণ বিংশতি (বিশ) সহস্র আয়ুসম্পন্ন হল। ভিক্ষুগণ, বিংশতি সহস্র বর্ষ (বৎসর) আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের মধ্যে একজন পুরুষ অদত্ত পরদ্রব্য গ্রহণ করে চুরি অপরাধ করল। অপর একজন পুরুষ হিংসায় প্রণোদিত হয়ে তার বিরুদ্ধে রাজার নিকট সংবাদ দিল।
৭. এরূপে, ভিক্ষুগণ, দরিদ্রকে ধনদানের অভাবে প্রচুর পরিমাণে ধনহীনতার উৎপত্তি হল, ক্রমে ক্রমে চৌর্য, প্রাণীহত্যা, মিথ্যাবাক্য, মিথ্যা বাক্য বৃদ্ধির সাথে পৈশুন্যর (পিশুন) আবির্ভাব হল, এর ফলে মনুষ্যগণের আয়ু ও বর্ণ ক্ষয় হল এবং বিংশতি সহস্র বর্ষ আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের সন্তান-সন্ততিগণ দশ সহস্র বৎসর আয়ুসম্পন্ন হল। দশ সহস্র বৎসর আয়ুসম্পন্ন মনুষ্যগণের কেউ কেউ সুরূপ এবং কেউ কেউ কুরূপ হল, যারা কুরূপ হল তারা সুরূপের প্রতি আসক্ত হয়ে পরদার (কামসেবা) গমন করল। এরূপে দরিদ্রকে ধনদানের অভাবে
বিপুলভাবে দারিদ্র্যের উৎপত্তি হল, ক্রমে ক্রমে চৌর্য-প্রাণীহত্যা, মিথ্যাবাক্য, পিশুন বাক্য, পিশুন বাক্যের বৃদ্ধি
লাভ হলে ব্যাপকরূপে ব্যভিচারের আবির্ভাব হল, উহার ফলে
মানব মুক্তির পথ প্রদর্শক গৌতম

মানবগণের আয়ু ও বর্ণ লঘু হয়ে দশ সহস্র বৎসর আয়ুসম্পন্ন মানবগণের সন্তান-সন্ততিগণ পাঁচ হাজার বৎসর আয়ুবিশিস্নষ্ট হল।
পর্ব -০১*

No comments:

Post a Comment