চিত্ত ঠিক করে, মনে লয়
-----ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরোর
শ্রদ্ধেয় বনভন্তে বলেন, মিলা-মরদ (মেয়ে ও পুরুষ) একে অন্যকে প্রথমে চিত্তে ঠিক করে, পরে মনটি লয়। এ সময়ে মেয়ে ও পুরুষ উভয়ে থাকে বাইরে পঞ্চ-স্কন্ধ (দেহ ও মন) রূপে। তখন তারা চক্ষু দ্বারা একে অন্যকে চিন্তার স্তরে নিয়ে যায়। এখানে চিত্ত চিন্তা শুরু করে এইভাবে- মেয়েটি ভাবে এই পুরুষটি যুবক, সে সুন্দর সুঠাম স্বাসে'্যর অধিকারী, তার চোখ এমন, চোখের ভ্রু এমন, নাক এমন, কান এমন, কপাল এমন, চুল এমন, ওষ্ঠ এমন, দাঁত এমন, মুখ মন্ডল এমন, গলা এমন, স্কন্ধ এমন, বক্ষ এমন, কোমর এমন, বাহুদ্বয় এমন, উরুদ্বয় এমন, জঙ্ঘা এমন, পদদ্বয় এমন, হাতের আঙ্গুল এমন, পায়ের আঙ্গুল এমন। এভাবে যুবকের দৃশ্যমান সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে মেয়েটির চোখ ও চিত্ত গো গ্রাসে গ্রহণ করে। অতঃপর তার মনোযোগ আকর্ষণার্থে নারী সুলভ ছলা-কলা প্রদর্শনে রত হয়। যুবকটির চিত্তও যখন একই ভাবে মেয়েটির সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গুণাগুণ বিচারে নিয়োজিত হয়, তখন পছন্দ হলে মন রাজি হয়, মেয়েটিকে দৈহিকভাবে কাছে পাওয়ার। দৈহিকভাবে কাছে পাওয়ার জন্যে তখন সে উপায় সন্ধান করে, চেষ্টা চালায়। মানব মনের এই চেষ্টাকে বনভন্তে বলেন বন্দুক মারামারী। এই বন্দুক মারামারীও চলে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অঙ্গ-ভঙ্গি দিয়ে। মুখের হাসি, চোখের ইশারা, মুখে হাই তোলা, ঘাঁড় বাকানো, হাতের আঙ্গুল দিয়ে মুখ খোঁচানো, গালে হাত বুলানো, বক্ষ প্রদর্শন, প্রেম নিবেদন মূলক ফিল্মী গান গাওয়া-ইত্যাদি নানা উপায়ে।
মেয়েটির মনও যদি যুবকটিকে পছন্দ করে, তখন তাকে পাওয়ার জন্য উপরোক্ত অঙ্গ-ভঙ্গিসহ চুল দোলানো, কপালের উপর ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ে আসা চুল বার বার সরানো। স্তন্যদ্বয়ের গোড়া দেখা যায় মতো অন্তর্বাস (বেলাউজ) পরিধান করা, ঘাড় থেকে পেছনে বেশী কিছু অংশ দেখা যায় মতো অন্তর্বাস পরিধান করা, বক্ষের বস্ত্র ঘন ঘন ফেলে দিয়ে স্তন্যের আকার প্রদর্শন করা, যুবককে দেখলে এক পলক দেখে নিয়ে মাথা নীচু করা, মাটি আচড়ানো, হাঁটার সময়ে পাছা ভাগ দোলানো সহ আরো অনেক প্রকার মেয়েলী স্বভাব পরিদর্শনে রত হয়।
এভাবে পরস্পরে একে অন্যকে আকর্ষণে এক একজন হয়ে উঠে উপন্যাস ফিল্ম এর নায়ক নায়িকা এমন পরিস্থিতিকেই শ্রদ্ধেয় বনভন্তে বলেন, তখন নারী-পুরুষ একে অন্যকে মারে ষ্টেনগান; মনে মনে দৈহিক মিলন ঘটালে মারে ব্রেনগান; বাস্তবে দৈহিক মিলন হলে মারে মেশিনগান। এই মারামারীই তোমাকে লজ্জা দেবে, পোড়া দেবে, ফেলে যাবে। ইহা পাপ, দুঃখ, মিথ্যা ও অসার। এই পাপ, দুঃখ, মিথ্যা ও অসারত্ব হতে মুক্তি লাভ করতে চাইলে, তোমাদেরকে অবশ্যই বন্দুক মারামারী বন্ধ করতে হবে। বল, বন্দুক মারামারী বন্ধ করতে তোমাদের সাধ্য আছে কি নাই? বল, তোমাদের সাধ্যে কুলায় কি, কুলায় না? না কুলালে বন্দুক মারামারী করতেই হবে।
বাস্তবে আমাদের মা-বাবা, নিকট আত্মীয়রাও নির্লজ্জভাবে, একান্ত অন্ধভাবে আমাদেরকে এই বন্দুক মারামারীতে লাগিয়ে দিতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করে থাকে। কারণ, তারা নিজেরাও এই বন্দুক মারামারীকে পছন্দ করে। তারাও এই মারামারীতে লিপ্ত। এ যেন মদের নেশা। মদখোর যেভাবে অন্যজনকেও মদপানে উৎসাহিত করে। মদখোর যেমন মাদকতা, মত্ততাকে তারা সুখ মনে করে, এই মা-বাবা রূপ মাতালেরাও আপন পুত্র-কন্যাদেরকে মাতাল বানানোকে নিজ কর্তব্য মনে করে। পুত্র, কন্যার কামাচারকে তারা পছন্দ করে, সুখ মনে করে। এ এক আশ্চর্য পাশবিক আচরণ।
নারী-পুরুষের এই কামনেশা আশ্চর্যজনক ভাবে এমন গভীর যে, একটি সন্তানকে জন্মদানের পর থেকে দিবা-রাত্র তাকে নিয়ে চিন্তা, উৎকন্ঠা, ব্যস্ততা ও দায়-দায়িত্ব এসব উপদ্রবকে কোন অবস্থাতেই দুঃখ বলে তারা ভাবতে পারে না। শুধু তা-ই নহে, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, সন্তান পালনের উপদ্রবকে বরঞ্চ নিজেদের দায়-দায়িত্ব বলেই তারা ধরে নেয়। কখনো তাকে দুঃখ বলে সত্যিকার ভাবে তারা বিশ্বাস করে না। নারী-পুরুষের এই মোহ, এই মাতালভাব তাই তাকে একটির পর একটি সন্তান লাভে উদ্বুদ্ধ করে। কখনো পরিণাম চিন্তা করার সুযোগটুকুও দেয় না।
-----ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরোর
শ্রদ্ধেয় বনভন্তে বলেন, মিলা-মরদ (মেয়ে ও পুরুষ) একে অন্যকে প্রথমে চিত্তে ঠিক করে, পরে মনটি লয়। এ সময়ে মেয়ে ও পুরুষ উভয়ে থাকে বাইরে পঞ্চ-স্কন্ধ (দেহ ও মন) রূপে। তখন তারা চক্ষু দ্বারা একে অন্যকে চিন্তার স্তরে নিয়ে যায়। এখানে চিত্ত চিন্তা শুরু করে এইভাবে- মেয়েটি ভাবে এই পুরুষটি যুবক, সে সুন্দর সুঠাম স্বাসে'্যর অধিকারী, তার চোখ এমন, চোখের ভ্রু এমন, নাক এমন, কান এমন, কপাল এমন, চুল এমন, ওষ্ঠ এমন, দাঁত এমন, মুখ মন্ডল এমন, গলা এমন, স্কন্ধ এমন, বক্ষ এমন, কোমর এমন, বাহুদ্বয় এমন, উরুদ্বয় এমন, জঙ্ঘা এমন, পদদ্বয় এমন, হাতের আঙ্গুল এমন, পায়ের আঙ্গুল এমন। এভাবে যুবকের দৃশ্যমান সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে মেয়েটির চোখ ও চিত্ত গো গ্রাসে গ্রহণ করে। অতঃপর তার মনোযোগ আকর্ষণার্থে নারী সুলভ ছলা-কলা প্রদর্শনে রত হয়। যুবকটির চিত্তও যখন একই ভাবে মেয়েটির সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গুণাগুণ বিচারে নিয়োজিত হয়, তখন পছন্দ হলে মন রাজি হয়, মেয়েটিকে দৈহিকভাবে কাছে পাওয়ার। দৈহিকভাবে কাছে পাওয়ার জন্যে তখন সে উপায় সন্ধান করে, চেষ্টা চালায়। মানব মনের এই চেষ্টাকে বনভন্তে বলেন বন্দুক মারামারী। এই বন্দুক মারামারীও চলে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অঙ্গ-ভঙ্গি দিয়ে। মুখের হাসি, চোখের ইশারা, মুখে হাই তোলা, ঘাঁড় বাকানো, হাতের আঙ্গুল দিয়ে মুখ খোঁচানো, গালে হাত বুলানো, বক্ষ প্রদর্শন, প্রেম নিবেদন মূলক ফিল্মী গান গাওয়া-ইত্যাদি নানা উপায়ে।
মেয়েটির মনও যদি যুবকটিকে পছন্দ করে, তখন তাকে পাওয়ার জন্য উপরোক্ত অঙ্গ-ভঙ্গিসহ চুল দোলানো, কপালের উপর ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ে আসা চুল বার বার সরানো। স্তন্যদ্বয়ের গোড়া দেখা যায় মতো অন্তর্বাস (বেলাউজ) পরিধান করা, ঘাড় থেকে পেছনে বেশী কিছু অংশ দেখা যায় মতো অন্তর্বাস পরিধান করা, বক্ষের বস্ত্র ঘন ঘন ফেলে দিয়ে স্তন্যের আকার প্রদর্শন করা, যুবককে দেখলে এক পলক দেখে নিয়ে মাথা নীচু করা, মাটি আচড়ানো, হাঁটার সময়ে পাছা ভাগ দোলানো সহ আরো অনেক প্রকার মেয়েলী স্বভাব পরিদর্শনে রত হয়।
এভাবে পরস্পরে একে অন্যকে আকর্ষণে এক একজন হয়ে উঠে উপন্যাস ফিল্ম এর নায়ক নায়িকা এমন পরিস্থিতিকেই শ্রদ্ধেয় বনভন্তে বলেন, তখন নারী-পুরুষ একে অন্যকে মারে ষ্টেনগান; মনে মনে দৈহিক মিলন ঘটালে মারে ব্রেনগান; বাস্তবে দৈহিক মিলন হলে মারে মেশিনগান। এই মারামারীই তোমাকে লজ্জা দেবে, পোড়া দেবে, ফেলে যাবে। ইহা পাপ, দুঃখ, মিথ্যা ও অসার। এই পাপ, দুঃখ, মিথ্যা ও অসারত্ব হতে মুক্তি লাভ করতে চাইলে, তোমাদেরকে অবশ্যই বন্দুক মারামারী বন্ধ করতে হবে। বল, বন্দুক মারামারী বন্ধ করতে তোমাদের সাধ্য আছে কি নাই? বল, তোমাদের সাধ্যে কুলায় কি, কুলায় না? না কুলালে বন্দুক মারামারী করতেই হবে।
বাস্তবে আমাদের মা-বাবা, নিকট আত্মীয়রাও নির্লজ্জভাবে, একান্ত অন্ধভাবে আমাদেরকে এই বন্দুক মারামারীতে লাগিয়ে দিতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করে থাকে। কারণ, তারা নিজেরাও এই বন্দুক মারামারীকে পছন্দ করে। তারাও এই মারামারীতে লিপ্ত। এ যেন মদের নেশা। মদখোর যেভাবে অন্যজনকেও মদপানে উৎসাহিত করে। মদখোর যেমন মাদকতা, মত্ততাকে তারা সুখ মনে করে, এই মা-বাবা রূপ মাতালেরাও আপন পুত্র-কন্যাদেরকে মাতাল বানানোকে নিজ কর্তব্য মনে করে। পুত্র, কন্যার কামাচারকে তারা পছন্দ করে, সুখ মনে করে। এ এক আশ্চর্য পাশবিক আচরণ।
নারী-পুরুষের এই কামনেশা আশ্চর্যজনক ভাবে এমন গভীর যে, একটি সন্তানকে জন্মদানের পর থেকে দিবা-রাত্র তাকে নিয়ে চিন্তা, উৎকন্ঠা, ব্যস্ততা ও দায়-দায়িত্ব এসব উপদ্রবকে কোন অবস্থাতেই দুঃখ বলে তারা ভাবতে পারে না। শুধু তা-ই নহে, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, সন্তান পালনের উপদ্রবকে বরঞ্চ নিজেদের দায়-দায়িত্ব বলেই তারা ধরে নেয়। কখনো তাকে দুঃখ বলে সত্যিকার ভাবে তারা বিশ্বাস করে না। নারী-পুরুষের এই মোহ, এই মাতালভাব তাই তাকে একটির পর একটি সন্তান লাভে উদ্বুদ্ধ করে। কখনো পরিণাম চিন্তা করার সুযোগটুকুও দেয় না।
![]() |
| বনভন্তের শিষ্যপ্রধান শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞালঙ্কার মহাথেরো। |
অজ্ঞতার মোহে মোহিত হয়ে আসক্তি-তৃষ্ণার লতা, তখন দিনে দিনে অবিরাম, অবিচ্ছিন্নভাবে কেবল বাড়তেই থাকে। এক একটি সন্তানকে ঘিরে মা-বাবা নামক মোহগ্রস্তরা কত স্বপ্ন, কত আশা-আকাঙ্খার জাল বুনে তার সীমা নেই। এই জালের পরিধি যতই বাড়ে, কর্ম বন্ধনের গিটও ততই বাড়ে। এই গিট্ একদিন ছিঁড়ে, এই জাল একদিন ছিঁড়ে, ইঁদুরে একদিন কাটে কখন? যখন রোগাক্রান্ত হয়ে শিশুটি পঙ্গু হয়; কিশোর সন্তান যখন জলে ডুবে, গাড়ী চাপায় মরে; যুবক সন্তান যখন নেশাসক্ত হয়ে চুরি, ডাকাতি, হত্যা, রাহাজানিতে লিপ্ত হয়ে, বিয়ে দেয়ার পরে, পুত্র যদি অন্ধভাবে স্ত্রীর বশীভূত হয়ে পড়ে কন্যা যদি মা-বাবার অমনোপুত ছেলের সাথে পালিয়ে যায়। এতে বাবা-মা মনস্তাপ, হা-হুতাশ করে; চোখের জল ফেলে, বুক-ফাটা কান্নায় গড়াগড়ি দেয়; সন্তানের উপর নির্ভর বৃদ্ধ পিতা-মাতা সন্তানকে হারিয়ে স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে হারিয়ে বুক ভেঙ্গে যায়; দু’চোখে অন্ধকার দেখে; তখনো কি তারা দুঃখকে সত্যিকারভাবে বুঝে? না, বুঝে না। এই বুঝে না বলেই তারা এত দুঃখ, এত বেদনা, এত মনস্তাপে জ্বলে পুড়ে ছাঁই হয়ে গেলেও অল্প দিনের ব্যবধানেই মিথ্যা আশার মায়া-মরিচিকায় আস্তে আস্তে সব ভুলে যায়। তাই তারা আবার নিত্য-নব আশা-আকাঙ্খার জাল বুনে, স্বপ্ন দেখে। একেই বলে সংসার।
================

No comments:
Post a Comment