Followers

Monday, May 8, 2017

আত্মোপলব্ধি অবক্ষয়ের চেতনায় মানবতা


 আত্মোপলব্ধি অবক্ষয়ের চেতনায় মানবতা
শ্রীমৎ বীতশোক ভিক্ষু। পর্ব -১
জুরাছড়ি সুবলং শাখা বন বিহার।
মানুষ যতক্ষণ পর্য্যন্ত অর্থতঃভাবে সক্রিয় থাকবে ততক্ষণ তারা সুখী থাকবে, কিন্তু এই অর্থত যখন প্রকৃতির বিপর্যয় ধারা ধ্বংস বা নিধন হবে, তখন মানুষের আত্মহারার সময় আসবে। এতেই মানুষের দুঃখের সূচনা হবে।কারণ বর্তমান মানুষ বিভিন্ন অধ্যসাচী শিক্ষায় গর্বিত, মোহিত, বেহুঁশিত মননে ইষ্ট হয়ে তাঁদের কর্ম, চিন্তা, উপলব্ধি অবক্ষয় পথে চলেছে। বিজ্ঞান প্রযুক্তি পদ্ধতি এবং শিক্ষা পদ্ধতির অভিজ্ঞতা মানুষকে সৃজনশীলতা দান করলেও মানুষ বড়ই মনস্তাত্ত্বিক চাপে ঘাবড়েঁ আছে। আজ বিশ্ব মানব ধার্মিকতামূখী নয়। ধর্মের অস্তিত্ত্ব পুরোপুরি অস্বীকার করার প্রয়াসে এগোচ্ছে কালের কবলে দিন দিন। অধার্মিকতা হওয়ার বিশেষ কারণ একদিকে বিশ্বের শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক অবদান এবং অন্যদিকে বিজ্ঞানপ্রযুক্তিবাদ। শিক্ষালব্ধ এবং শিক্ষামূখী উভয়ই মানুষ শিক্ষাকেতু হয়ে স্বীয় জ্ঞান,কৌশল, বুদ্ধি, ভাবকে সম্পূর্ণ দাপট হিসেবে ব্যবহার করাই ধর্মকে প্রধান আশ্রয় হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে না।তাঁরা ধর্মকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিকতা, সামাজিকতা, এবং হুজুগে। আবার কিছু মানুষ মানবতার মুখ্যধারী হয়ে মানবতাকে প্রধান ধর্ম হিসেবে মেনে নিয়ে আত্মমুক্তি ধর্মের সদিচ্ছাভাব ভুলে গিয়েছে। ধর্মকে এই অর্থে শিক্ষিতকলমী মানুষেরা ব্যবহার করে না যে, ধর্ম মানে প্রকৃত সুখবোধ উপলব্ধি চেতনা বা আত্মমুক্তি। যা আত্মপাপ নিস্কৃতি করা প্রকৃত মনন বোধ। একজন শিক্ষিত মানুষ যদি শিক্ষাকে মানবীয় মূখ্য আশ্রয়  হিসেবে মেনে নেন তাহলে বিশ্ব-ব্রম্মাণ্ড ভূ-পৃষ্ঠে ধর্মপ্রবর্তক গুরুকে মানা হবে কেন?  এজন্য শিক্ষিত সমাজের মানুষরা ধর্মবাদ নিষ্প্রয়োজনবোধ মনে করছে।। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানগত শিক্ষানুগ মানুষের অনুসারে ধর্ম ব্যবহার চলে না। সেক্ষেত্রে কিছু শিক্ষিত মানুষ চিন্তা করে,  আসলে ধর্ম অজ্ঞ লোকদের জন্য অগ্রগামী। তাঁদের জোঁড়ালো বিশ্বাস- শিক্ষায় মানুষের সবকিছু সমাধান দেবে। এজন্য শিক্ষিতরা ধর্মানুরাগে বিশ্বাস বঞ্চিত হওয়া থেকে দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি হতে চলেছে। তাঁদের সংখ্যা নাস্তিক্যবাদ। কিন্তু শিক্ষিত মানুষ এই ধারণা থেকে বঞ্চিত যে, বিশ্বব্যাপী যে শিক্ষা প্রচলিত রয়েছে, সেখানে মোহের অন্ত নয় বরং এ শিক্ষা বিশ্বব্যাপী মানুষের হুমকির ছালে চ্যালেঞ্জিং।।যিনি   শ্রাদ্ধভাব গুরু থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, সেই গুরু অন্য বিদ্যায় আগ্রহী। তার মানে গুরুর মোহও শেষ নহেতু গুরুও এখনো শৈক্ষ্য। এ থেকে বুঝা যায়, শিক্ষা মানুষের অন্ধত্ব নিবৃতি করে না। ধর্মই মানুষের অন্ধত্ব নিরসন করতে পারে। তবে কেন ধর্মের উর্ধ্বে মানুষ নিজেকে প্রতিপত্তিত্ব করবে? সেথা আসল ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় না। এজন্য মানুষের স্বীকার করতে হবে বরং ধর্মহীন ব্যক্তি নিকৃষ্ট মানব। মানবীয় চেতনা থেকে বঞ্চিত। আমরা যদি ধর্মের দিক দিয়ে প্রাণীগুলোকে গবেষণা করি, অবশ্যই দেখতে পায়, তির্য্যকপ্রাণীদের ধর্ম বিশ্বাস মনোন্দ্রিয় সক্ষমতা নেই। কারণ বুদ্ধের যুক্তিতে তির্য্যকপ্রাণীরা অহেতুক প্রাণ।"( মানবের মতো ধর্ম, সংস্কৃতি,জ্ঞানাভ্যাস জনন ঈন্দ্রিয় ক্ষমতা ইতর প্রাণীগুলোর নেই-তাই অহেতুক)" মানবদের হেতুপূর্ণ বিজ্ঞান ইন্দ্রিয় সংবলিত- চিন্তন,মনন, বিজানন ক্ষমতা আছে বলে ধর্মবোধ শক্তি প্রয়োজন আছে। তবে ইতররা চিন্তন, মনন, বিজানন চেতনাশক্তিতে পঙ্গু ইন্দ্রিয়। যা আছে তা খুব দুর্বল।
পরম পূজ্য বনভন্তে


 মানুষ আত্মহারা হয় কেন?
    মানবীয় বোধে প্রত্যেক মানুষের স্বকীয়তা সুস্বভাব  ও সম্মান রক্ষার আত্মবোধ প্রভাব আছে। যাঁরা মানবীয়(Human) চেতনায় অগ্র তাঁদের জীবন এতই সুন্দর যে, মনে হয় মানুষের মাঝে সেই মানুষটি প্রকৃত মানুষের মনটি খুঁজে পেয়েছেন, তাই তিনি সুখী। তবে ধর্মাবোধ মাধ্যমে সুখী থাকা আর মানবতাবোধ নিয়ে সুখী থাকা তফাৎ আছে। আমরা বুঝি, ধর্মই মানুষের মনের মাত্রাসমষ্টি যেমন- পাপ, দুশ্চিন্তা,উদ্বেগ,মনস্তাপ, অশান্তি,আসক্তি, ক্লিষ্ট, ইত্যাদি থেকে চিরতরে মুক্তি দিয়ে সর্বশেষ সুখীবোধ লাভ করে আত্মস্বস্তি, আত্মসন্তুষ্টি ও আত্মসুখের মন গঠন করে। মানবতার সুখ সাময়িক দুশ্চিন্তার নিবৃতি মাত্র। মানবীয় সমষ্টিগত চিন্তার মধ্যে দিয়ে মানুষের যে সুখ উৎপন্ন হয় তা সময়, কাল, ও ঋতুগত এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে পরিবর্তন হতে পারে। কারণ ইন্দিয়জাত স্পৃহা জনিত মানসিক সম্পূর্ণ পরিবর্তনের সাথে মিল আছে। তবে মানবতার চেতনা যাঁর স্বভাবগত হোক, জ্ঞানলব্ধ জনিত হোক, অথবা পরোপকার বশতঃ হোক মানব শব্দটি নিয়ে মানবতা। প্রকৃত মানবের চিহ্ন মানবতাভাব। মানবতার আত্মোপলব্ধি দ্ধারা মানুষ সদ্ ভাব বঝায় রাখতে পারেন।। এই সদ্ ভাবের অভাব থাকলে মানুষ মান-যশঃ- সম্মান থেকে বঞ্চিত থাকেন। অসম্মান-অযঃশ- অগ্রাহ্যত কারণে মানুষের আত্মোপলব্ধি অবক্ষয় হতে পারে। আর আমি আত্মাহারা শব্দটি কেন ব্যবহার করেছি! এটা এ অর্থে যে, ভৌগলিকগত মানুষগুলোর জীবিকার একমাত্র স্বার্থ হচ্ছে- আর্থিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা,চিকিৎসা, বাসস্থান এই পাচটির সুবিধাপুষ্ট সুখের তাগিদে জৈবিক পরিতৃপ্তির কারণ। কিন্তু এগুলো পৃথিবীর প্রাকৃতিক নিয়মের বিধানে অবধারিত। প্রকৃতির নিয়মের ঋতু যখন সঠিক নিয়মে চলে তাহলে বিজ্ঞানপ্রযুক্তির উপাদান, কৃষিবিদের উপাদান, অর্থনৈতিকের উপাদান, স্বাস্থ্যগত উপাদান ইত্যাদি সবকিছুর উপাদানের চাহিদাও সঠিক পর্যায়ে চলবে। আর্থিকভাবে অভাব জনিত মানুষের আত্মহারার শেষ নেই। অভাবী মানুষের আত্মোপলব্ধি ক্ষমতা হ্রাস পায়। মস্তিস্কের কাজও গোঁছালো হয় না। এতে আত্মশক্তি অগোঁছালো জনিত কারণে মনের মাত্রা অসঠিক ধ্যান-ধারণায় সমুদ্ধত হয়।
 শিক্ষালব্ধ জ্ঞান এবং ধর্মীয় জ্ঞান উভয়ই জ্ঞান কি মানবতার প্রতীক?
 আমরা জানি, শিক্ষা কখনো মানুষের জ্ঞান, চিন্তা, ভাব, বুদ্ধি, কৌশল এবং অভিজ্ঞতাকে একমূখী প্রভাব ফেলে না। একটি বিষয় বা একটি কাজকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বুঝতে এবং প্রয়োগ করতে যে অভিজ্ঞতা ব্যবহার করি তা হচ্ছে শিক্ষালব্ধ ধারণার কারণে। আমি মনে করি, এই বোধেচ্ছার অবদানে শিক্ষার মান কম নয়। শিক্ষা বরংশ একমূখী জ্ঞানকে ভিন্নখাতে বিশ্লেষণ করার শক্তি-প্রয়াস প্রদান করে। আমি উপরে যে বিষয়ালোকে বলে এসেছি, আমি কিন্তু শিক্ষাকে অসর্থন দিতে কোন যুক্তি উপস্থাপন করতে চাইনি। শিক্ষা মানব জাতির প্রারূঢ় স্তম্ভ।  আমি বুঝাতে চেষ্টা করেছি, শিক্ষিত মানুষের অধার্মিক গতিপথ অযৌক্তিক এবং অবাঞ্চিত। প্রত্যেক জাতি মানুষের শিক্ষার মূল্যায়নত্ব থাকতে হবে। কেননা ইহা মানসিক বিপ্লবে গড়াঁ চৌমূখী চেতনার জাগরণী বার্তা।
ধর্ম এবং শিক্ষার গুণের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। বিজ্ঞান এবং বৌদ্ধধর্মের দর্শনের মধ্যে যেমন বেশি দুরত্ব নেই। ঠিক তেমনি শিক্ষা ও ধর্মের মধ্যে পার্থক্যও সামান্য। শিক্ষাখাতের গুণ যেমন- একটি কাজকে ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করা আর ধর্মের গুণ হচ্ছে- সেই কাজকে একই পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করে হিতকর অর্থে মূল্যায়ন করে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা লাভ করা। তবে শিক্ষার পদ্ধতির উদ্দেশ্যে হচ্ছে কাজের অভিজ্ঞতাকে জনস্বার্থ ও নিজের স্বার্থে প্রভাব ফেলা। ধর্মের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি স্বার্থহীন সুবিধায় কাজকে রুপান্তর করা। একই মূল্যায়নে মানবতার কাজেও শিক্ষা এবং ধর্ম  সেবা প্রদান করে।
পর্ব- ১

No comments:

Post a Comment