Followers

Friday, June 16, 2017

নির্বান প্রভাবিত ইস্যু কেন

নির্বান যুক্তিশীল প্রভাবিত ইস্যু কেন?
 বৌদ্ধ সমাজ ব্যাপক শিক্ষা বিহিত দর্শনের মধ্যে দিয়ে  আদিকল্যান, মধ্যেকল্যান, এবং অন্তেকল্যানের শিক্ষা সমাদৃতভাবে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এই শিক্ষার মাধ্যমে বৌদ্ধদর্শনের উচ্চতা ও ঋজুতা অনুমান করা চলে। মানুষের অধিশীল, অধিচিত্ত, অধিপ্রজ্ঞা এই ত্রিবিধ বিদ্যা অর্জন করতে এই শিক্ষার ব্যাপক গুণাবদান নিহিত রয়েছে। মানবের মধ্যে আত্মপরিশোধিত আর্য্যমানবগণ প্রকৃত বৌদ্ধদর্শনের স্বকীয়তা লাভ করে জগৎ নিবৃতির প্রমাণভিত্তিক মুক্তি পেয়ে জন্মবাদ খণ্ডন করে গেছেন। তাও কঠোর তপস্যার অধ্যয়ন সরুপ অথবা আত্মজয় সরুপ।আত্মনিবৃতিতার্থে নির্বাণ দর্শন।  ইহা বৌদ্ধধর্মের দার্শনিকবৃত্তির চরম লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য। জীবনের চরম পর্যায় বৌদ্ধদর্শনের এ স্তর।এখন আত্মনিবৃতি কি? আত্মনিবৃতি বলতে বুঝায়- আত্মকলুষ, আত্মপাপেচ্ছা, আত্মহীনধর্মতা, আত্মপাপাচরণ থেকে নিজের স্বকীয় দুস্কার্য স্বভাবের চির মুক্তি পাওয়া। চিত্তানুভূতি প্রত্যেক মানব বা স্বত্ত্বকে সারথির ন্যায় ইচ্ছানুসারে পর্যাপদ করছে। মনস্তাত্ত্বিকসৃষ্ট  লোভ, দ্বেষ, মোহময়তা ভাব থেকে আমাদের নিবৃতির মূলাকাঙ্খায় নির্বান দর্শনের যৌক্তিকতা আছে।  দশবিধ ক্লেশ-( লোভ, দ্বেষ, মোহ, মান, মিথ্যাদৃষ্টি,বিচিকিৎসা, স্ত্যানমিদ্ধ,ঔদ্ধত্য, অহ্রী, অনপত্রপা) মানসিক ভারাক্রান্তরোগগুলো হচ্ছে মানষের হীনভাব,  হীনাভ্যাস, হীনসংস্কার। বুদ্ধ আত্মনিবেদিত মানসিক রোগগুলো নিচিহ্ন করে আত্মজয় হয়েছেন। তিনি পরম অভিজ্ঞা দর্শনে জ্ঞাত হলেন যে, শারীরিক রোগের চেয়ে মানসিক সংশ্লিষ্ট রোগসমূহে প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে নিষ্পেষিত দুঃখ, অন্তরায়, ও আদীনব আছে। মানসিক রোগ প্রত্যেক মানব জাতিকে শোষিত, নিষ্পেষিত, দলিত করছে। কারণ বুদ্ধ প্রমাণ করেছেন যে, খারাপ চিন্তা-চেতনা, বুদ্ধি, কৌশলগুলো প্রত্যেক মানুষকে আত্মাঘাত করে দুঃখ সৃষ্টির একমাত্র উপাদান।
 তাই ইহা মানব জাতির প্রধান আদীনব বলে বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ ঘোষণা করেন। আসলে ইহা পারমার্থিকভাবে চিরন্তন সত্য। প্রত্যেক মানব জাতির মানসিকগত সুস্থ বিচার ও সমাধার পরিশিষ্টে ঐহিক -পারত্রিক সুখ-শান্তি রচনা করার শক্তি নিজেদের আছে। তাই বুদ্ধ আত্মনিবেদিত সুকৌশলী ভাল দিক চিন্তা-চেতনাগুলিকে প্রকাশ্যে মার্জিতভাবে উপদেশ নিদর্শন করেন ভিক্ষুসংঘ এবং জনসাধারণের মহলে। নির্বান আসলে বৌদ্ধ পরিভাষায় শব্দবোধক অর্থ থাকলেও কোখনো স্থানভিত্তিক অবস্থান নির্দেশ করে না। শব্দটির তাৎপর্য যেমন নি- অর্থ  ধাতু নিষ্পন্ন, নিরর্থক বা নাই বুঝায়। বাণ -অর্থ তৃষ্ণা, আসক্তি, আকৃষ্টতা বুঝায়। তৃষ্ণা,আসক্তি, আকৃষ্টতা থেকে ছিন্নভাব থাকা। প্রকৃতঅর্থে, নির্বাণ হলো সেই ধর্ম সকল দুঃখ, তৃষ্ণা, প্রেমভাব থেকে পুরিপূর্ণ অবসান। ইহা বৌদ্ধধর্মের লোকত্তর জ্ঞানের পরমার্থ সত্য নির্দেশ করে। স্বভাবত নির্বাণ শান্তিময় বা শান্তি স্বভাব অভিজ্ঞাভাব। একজন মানুষের তৃষ্ণাশক্তি ও কর্মশক্তির শেষ মূহুর্তে এ সত্য দর্শন লাভ হয়। প্রবর্তনকাল সত্ত্ব তৃষ্ণারজ্জুতা বিমুক্ত না হলে নির্বাণ দর্শনও হয়না। অবিদ্যা ধ্বংসের প্রদান উপকরণ হিসেবে নির্বানের লক্ষ্য অপরিসীম। মানবীয় জীবন বিপদ সংকুলের কারণে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ফল বা ভাগ্য প্রাণীগণ ভোক্তা হয়। সত্য হিসেবে কর্মভাগ্যের বাইরে প্রাণীগণ নেই। সব সময় কর্মচক্রের সার্কেলে নিজের অবস্থান অটুট আছে। বিশিষ্ট দর্শনবিদ নাগসেন- পৃথিবীর একছত্র পরিচালক রাজা মিলিন্দের প্রশ্নে উত্তরে বলেছেন যে, নির্বান এমন একটি অনুমান করার দৃশ্য যা প্রদীপের অগ্নির মতো। প্রজ্ঝলিত প্রদীপ যখন নিভে যায় তখন নির্দিষ্ট অগ্নি কোথায় যায় খেয়ালহীন ভাবে নিবৃতি হয়। অথচ অগ্নি ছিল। ঠিক নির্বান দর্শনলাভী মানুষ্যগণের চিত্তক্ষণও এভাবে নিবৃতি পায়। যা অদৃশ্য রুপে নিরবসান হয়। চিত্তনিবৃতি ক্ষণে মানুষ্য বা সত্ত্বকুলের কর্ম ও জন্মশক্তি মলিন বা ক্ষয় হয়। ইহা পরম সাদৃশ্য নামই নির্বান দর্শন।

No comments:

Post a Comment