বুদ্ধ জগতে অতি প্রিয় সাধনা করে নিজের পবিত্র জীবনের অনুসন্ধান খুঁজে পান। তাঁর চন্দ্রের আঁলোর মতো বিচ্ছুরিত জীবনময় সাধনা মানব জাতিকে দিয়েছে সুন্দরতম অধ্যায়। যে অধ্যায়ে প্রত্যেক মানবের চিন্তাকে সুমহান পথ দেখিয়েছে। বুদ্ধ তাঁর আদর্শ সহজ ভাবনায় উপলব্ধ করতে পারেনি। শরীরের অসহনীয় নিলিমায় কঠোর আচরণের দ্বারা লাভ করেছেন তাঁর বিশ্ব হিতকর সাধনার ফসল। শুধু তপস্যা আর তপস্যা। তিনি কখনো আদর্শ বলির কথা ভাবেনি। প্রাণের অন্ত পরিবেশন করতেও রাজি হয়ে পূর্ণ সাধনায় মন্থর হয়েছিলেন বিশ্বকল্যাণে। বুদ্ধের আদর্শ কোখনো মানব জাতিকে দুঃখদহন করতে পারে না। কারণ তাঁর অন্তর্সাধনা সম্পূর্ণ পবিত্র চেতনাভিত্তিক উপলব্ধিকে আনুকুল্য করে। বুদ্ধ তাঁর ভাবাদর্শকে বিশুদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করে আত্মবিশুদ্ধির প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তাই মানব জাতির জন্যে যা বাণী, উপদেশ প্রচারণা করেছেন সেগুলো সম্পূর্ণ আত্মবিশুদ্ধির হেতু। কোখনো আত্মদহনের কথা বলেননি। আত্মদহনের কথা বললেও শুধুমাত্র আদীনব, উপদ্রব, ও বিপদ সংকুলের উদ্দেশ্যে প্রস্তাবনা করেন। কিংবা সেই আত্মদহনের চেতনা থেকে বেড়িয়ে আসতে করুণাচ্ছলে আহ্বান জানিয়েছেন। কোখনো আত্মপাপে পীড়িত হওয়ার উদ্দেশ্যে,দহন হওয়ার উদ্দেশ্যে, ক্লিষ্ট হওয়ার জন্য উপদেশ প্রদান করেননি। তাই বুদ্ধ যেমনি ভাবাদর্শে বিশুদ্ধি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন আমাদেরও উচিত সেই বিশুদ্ধি সাধনার মাঝে নিজের জীবনময় সাধনাকে উৎসর্গ দেওয়া।
বুদ্ধের প্রধান চেতনা হলো " প্রাণ " কে ভালোবাসা বা দয়া করা। সেজন্য দুঃখ সাধনা থেকে প্রাণসত্ত্বাকে মুক্তি দেওয়াই প্রথম পর্যায়ের সাধনা। বুদ্ধ সর্বজ্ঞতা লাভ করার আগে Masterplan করেছেন জীবের আত্মমুক্তি ও আত্মবিশুদ্ধি সুখ কীভাবে অর্জন করা যায়। সেই মার্গপন্থাগুলোর নীতিমালা। মনস্তাত্ত্বিক গবেষণামূলে বৌদ্ধদর্শনের অবাকক্ষমতা বিদ্যমান আছে। মানবের মানসিক বেদনাশক্তি অন্ধকারে দহন করে করে কোন আত্মবিনোদন সুখ লাভ করা সম্ভব নয়। যা লাভ করা হয় তাও সাময়িক কারণ। কিন্তু পরিণাম ভয়াবহ। বৌদ্ধজ্ঞান বা বুদ্ধের অভিজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রঁকৃতি সম্বন্ধ। প্রকৃতিকে তাল মিলিয়ে যে বাস্তব সম্মত সত্য দর্শনের জ্ঞান উপলব্ধ হয় তা বুদ্ধের সমীপন্থি। প্রত্যেক বোধশক্তিতে উচ্চাকাঙ্খা ও উচ্চতর সাধনার সমাধি অর্জনের প্রয়োজনীয়তায় হলো বুদ্ধের একান্ত যোগ। বুদ্ধের মহৎ চেতনা বিশ্ব মানবের জন্য শস্যের ঔষধি সরূপ জনহিতকর কল্যাণ বর্ষিত হয়েছে। এর সময় ছিল প্রায় ২৫৬০ বুদ্ধবর্ষ আগে। তাঁর জন্মের শুরুতে ইতর প্রাণীদের প্রাণ এতই স্বচ্চ ও ভাস্বর হলো যে, নিজেদের আনন্দে বেঁহুশে লাফাঁলাফি করতে থাকে। একের পর এক আনন্দের উচ্ছ্বাস হৃদয়ে ভেঁসে যেতে লাগল। হাতির রবে কাঁঠবিড়ালী সবুজ ঘেঁরা ঝোপ থেকে নাচতে শুরু করে দিল। আহা! কী চাকচিক্য আনন্দের কৌতুহল। বড়ই মধুর! বড়ই মধুর! অনুভব করতে লাগল ফুলের সুবাস চেয়ে হৃদয়ের প্রফুল্ল সুবাস কতই না উত্তম। ছুঁয়েও দেয় মন। এর মতো প্রাণের প্রশান্তি আর মনে হয় নেই। মানব জাতির নৃত্যমঞ্চ আয়োজনের মতো বসালো রমরমা রঙ্গাঙ্গন। কারণ জগৎ গুরুই আবির্ভাব হয়েছে ধরাধমে। আজ থেকে মানুষের শিক্ষা, চেতনা, বোধ, সমাজব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় দরদ ইত্যাদিই সুশাসনে বদলে যাবে। মানব জাতি পাবে অমৃত উপহার। পাবে প্রকৃত মানব মুক্তির শূণ্য আত্মা। জগৎ গুরু মানেই হলো এর সাথে অতুলনীয় সৃষ্টি মানব। তাঁর গুণ, কর্ম, ভাব, শিক্ষা, সাস্থ্য, চেতনার সাথে কোন মহৎ মানবীয় আত্মার তুলনাও নেই, সমানও নেই এবং উত্তমও নেই। ইনিই জগৎ গুরু। ইনিই সম্যক সম্ম্বুদ্ধ! ইনিই বুদ্ধ! বুদ্ধপ্রাপ্তি হয়ে সংঘপ্রতিষ্ঠা, ধর্ম প্রবর্তক করলেন।আবিস্কার করলেন আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ ও চতুরার্য সত্যদর্শন। সময় সন্ধিক্ষণে দিকে দিকে প্রচারনা ও প্রসারনা হয়ে উঠল পরম বৌদ্ধদর্শন। এই দর্শন কঠিন হলেও আঁচড়ে আঁকড়ে ধরল মানব জাতির শাসন ব্যবস্থায়। বিশ্ব-ব্রম্মাণ্ড সত্ত্বকে নাঁড়া দিয়ে আকুল করল বৌদ্ধের পরম সত্য। দেব, ব্রম্মাসহ, বিশ্ব প্রাণীসত্ত্বই মাতৃক বুদ্ধের একান্ত অনুগতে আসতে থাকে পরম্পরায় এঁকে এঁকে। তাই আমরাও এখন বুদ্ধের শরণাগত। সুতরাং বুদ্ধ আমাদের প্রিয় মানুষ।
লিখেছেন→ শ্রীমৎ বীতশোক ভিক্ষু।
সুবলং শাখা বন বিহার, জুরাছড়ি।
লিখেছেন→ শ্রীমৎ বীতশোক ভিক্ষু।
সুবলং শাখা বন বিহার, জুরাছড়ি।

No comments:
Post a Comment