Followers

Sunday, December 25, 2016

বৌদ্ধধর্ম সার (Buddhism in a Nutshell-part-04

বৌদ্ধ ধর্মসার ★ Bhuddhism in a Nutshell -o4
===================================
বৌদ্ধধর্ম কি নৈতিক বিধান ?
এটা সন্দেহাতীত যে বৌদ্ধধর্ম এমন এক সমুন্নত শীল (নৈতিক বিধান) ধারণ করে, যা পূর্ণতায় ও পরার্থপর প্রকৃতিতে অনুপম। এ শীল ভিক্ষুদের জীবন যাত্রার জন্য একরূপ এবং গৃহীদের জন্য ভিন্ন প্রকার। কিন্তু বৌদ্ধধর্ম সাধারণ শীল ( নৈতিকতা) হতে অনেক বেশী। শীল (নৈতিকতা) বিশুদ্ধি-মার্গের প্রথম ধাপ এবং শীর্ষ উঠবার একটি উপায়; নিজে শীর্ষ নয়। মুক্তিলাভের জন্য শীল পালন অত্যাবশ্যক হলেও পর্যাপ্ত নয়। তা প্রজ্ঞাসংযুক্ত হওয়া উচিৎ। শীল বৌদ্ধধর্মের ভিত্তি এবং প্রজ্ঞাই এর চরম শীর্ষ।
কোন বৌদ্ধ শীল (নৈতিক নিয়ম) পালনের সময় কেবল নিজেকে নয়, সকলকে এমন কি সর্ব প্রাণীকে অবলম্বন করে পালন করেন।
বৌদ্ধধর্মের শীল যেমন কোন সন্ধিগ্ধ প্রত্যাদেশের উপর প্রতিষ্ঠিত
নয়, তেমন, এটা কোন বিশিষ্ট বুদ্ধিমান ব্যক্তির মস্তিষ্ক প্রসূত
আবিষ্কারও নয়। বস্তুতঃ তা প্রামাণ্য ঘটনা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর প্রতিষ্ঠিত যুক্তি-বিচার সমন্বিত ব্যবহারিক বিধি। এটা উল্লেখ্য যে, বৌদ্ধের চরিত্র গঠনে কোনও বাহ্যিক অলৌকিক শক্তির প্রভাব নেই। বৌদ্ধধর্মে পুরস্কার বা শাস্তি দেবার কেউ নেই। সুখ-দুঃখ প্রত্যেকের কৃতকর্মের অপরিহার্য ফল। ঈশ্বর কর্তৃক সুখ- দুঃখ দানের প্রশ্ন কোন বৌদ্ধের মনেও আসে না। পুরস্কারের প্রত্যাশা বা শান্তির ভয় তাঁর পুণ্যার্জনের বা পাপবিরতির প্রেরণাদায়ক নয়। প্রত্যেক বৌদ্ধ তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মফল সম্পর্কে সচেতন। বোধি বা প্রজ্ঞা লাভে প্রতিবন্ধক বলে তিনি পাপে বিরত এবং সহায়ক বলে পুণ্য কর্মে রত হন। কেহ কেহ আছেন ভাল বলে সৎকাজ করেন এবং মন্দ বলে পাপ কর্ম হতে বিরত হন।
বুদ্ধ জ্ঞান লাভের জন্য তাঁর বিশেষ উচ্চাঙ্গের শীল সম্বন্ধে অনুগামীদের নিকট এ
প্রত্যাশা করেন যে তাঁরা যেন  যত্নসহকারে ধম্মপদ, সিগালোবাদসুত্ত, ব্যগ্গপজ্জসুত্ত,
মঙ্গলসুত্ত, করণীযমেত্তসুত্ত, পরাভবসুত্ত, বসলসুত্ত, ধম্মিকসুত্ত প্রভৃতি পাঠ করেন।
নীতিশিক্ষা হিসেবে এ শীল অন্য সব নীতি বিধানের ঊর্ধ্বে। কিন্তু শীল বৌদ্ধধর্মের
আদি, অন্ত নয়। এক অর্থে বৌদ্ধধর্ম দর্শন নয়; অন্য অর্থে কিন্তু সব দর্শনের সেরা
দর্শন। এক অর্থে ইহা ধর্ম নয়, অন্য অর্থে কিন্তু সর্ব ধর্মের সেরা ধর্ম। ইহা অতীন্দ্রিয়বিদ্যার মার্গ
 যেমন নয়- তেমন আচরণ সর্বস্বও নয়। ইহা সন্দেহবাদ যেমন নয়, তেমন প্রমাণহীন বদ্ধ ধারণাও নয়। ইহা কৃচ্ছ- সাধনা যেমন নয়, তেমন ইন্দ্রিয়ভোগাসক্তিও নয়। ইহা একান্ত সুখবাদ যেমন নয়, তেমন একান্ত দুঃখবাদও নয়। ইহা শাশ্বতবাদ যেমন নয়, তেমন উচ্ছেদবাদও নয়। ইহা ইহলৌকিক যেমন নয়, তেমন পারলৌকিকও নয়। ইহা প্রজ্ঞালাভের এক অসাধারণ মার্গ। বৌদ্ধধর্মের জন্য মূল পালিতে ব্যবহৃত শব্দ "ধম্ম", যার আভিধানিক অর্থ 'ধারণ করা'। এই পালি শব্দের যথার্থ অর্থজ্ঞাপক ইংরেজি প্রতিশব্দ পাওয়া যায় না।
যা বাস্তব তা-ই 'ধম্ম'। ইহা বাস্তবতার মতবাদ। ইহা দুঃখমুক্তির উপায় এবং নিজে মুক্ত। বুদ্ধের আবির্ভাব হোক বা না হোক ''ধম্ম" চির বিদ্যমান। প্রজ্ঞাদীপ্ত বুদ্ধ একে সাক্ষাৎ করে করুণার্দ্র চিত্তে জগদ্বাসীর নিকট প্রকাশ না করা পর্যন্ত তা মানুষের দৃষ্টিহীন চোখে গোচরীভূত হয় না।
"ধম্ম" কারো হতে দূরে নয়, বরং সবার সাথে ঘনিষ্ঠভাবো যুক্ত। বুদ্ধ পরিনির্বাণ সূত্রে বলেছেন :-
"আত্মদীপ এবং আত্মশরণ হয়ে জীবন যাপন কর; ধর্মদীপ এবং ধম্মশরণ হয়ে জীবন যাপন কর। বাহ্যিক আশ্রয়ের অন্বেষণ করো না"।
★ লেখক :
@ মূল ইংরেজি : নারদ থের
@ বাংলা অনুবাদ : শ্রীকিরণ চন্দ্র ব্রহ্ম
বুদ্ধ পূর্ণিমা, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৩৮৮
ফোটো: সংগৃহীত

No comments:

Post a Comment