(গ) কায সুত্তং- কায় সূত্র
২৩.১। “হে ভিক্ষুগণ, কোনো কোনো (অকুশল) ধর্ম আছে যা কায় দ্বারা প্রহাণযোগ্য বাক্য দ্বারা নয়; কোনো কোনো ধর্ম আছে যা বাক্য দ্বারা প্রহাণীয় কায় দ্বারা নয়; কোনো কোনো ধর্ম আছে যা প্রজ্ঞা দ্বারা দর্শনেই প্রহাণতব্য কায় কিংবা বাক্য দ্বারা নয়।
২। ভিক্ষুগণ, কীরূপ ধর্ম আছে যা কায় দ্বারা প্রহাণযোগ্য বাক্য দ্বারা নয়?
ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে ভিক্ষু কায়ের দ্বারা সামান্য মাত্রায় অকুশলগ্রস্ত হয়। তা বিজ্ঞ-সব্রহ্মচারীগণ জ্ঞাত হয়ে কায়িক অকুশলগ্রস্ত ভিক্ষুকে এরূপ বলেন, ‘হে আয়ুষ্মান, আপনি কায় দ্বারা সামান্য পরিমাণে অকুশলগ্রস্ত হয়েছেন। সেহেতু, আপনি উত্তমরূপে কায় দুশ্চরিত্র ত্যাগ করে কায় সুচরিত্র অনুশীলন করুন। সে বিজ্ঞ-সব্রহ্মচারীদের দ্বারা এরূপে উপদিষ্ট হয়ে কায় দুশ্চরিত্র ত্যাগ করে কায় সুচরিত্র অনুশীলন করে। ভিক্ষুগণ,

সেহেতু ইহাকে বলা হয়-‘কায় দ্বারা প্রহাণযোগ্য, বাক্য দ্বারা নয়।’
৩। ভিক্ষুগণ, কীরূপ ধর্ম আছে যা বাক্য দ্বারা প্রহাণীয় কায় দ্বারা নয়?
ভিক্ষুগণ, এক্ষেত্রে ভিক্ষু বাক্য দ্বারা কিঞ্চিৎ মাত্রায় অকুশলগ্রস্ত হয়। তা বিজ্ঞ সব্রহ্মচারীরা জ্ঞাত হয়ে বাচনিক অকুশলগ্রস্ত ভিক্ষুকে এরূপ বলেন, ‘হে আয়ুষ্মান, আপনি বাক্য দ্বারা কিঞ্চিৎ মাত্রায় অকুশল প্রাপ্ত হয়েছেন। সেহেতু, আপনি উত্তমরূপে বাচনিক দুশ্চরিত্র ত্যাগ করে বাচনিক সুচরিত্র অনুশীলন করুন। সে বিজ্ঞ-সব্রহ্মচারীদের দ্বারা এরূপে উপদিষ্ট হয়ে বাচনিক দুশ্চরিত্র ত্যাগ করে বাচনিক সুচরিত্র অনুশীলন করে। ভিক্ষুগণ, সেহেতু ইহাকে বলা হয়-‘বাক্য দ্বারা প্রহাণযোগ্য কায় দ্বারা নয়।’
৪। ভিক্ষুগণ, কীরূপ ধর্ম আছে যা প্রজ্ঞা দ্বারা দর্শনেই প্রহাণতব্য কায় কিংবা বাক্য দ্বারা নয়?
ভিক্ষুগণ, লোভ হচ্ছে কায় কিংবা বাক্য দ্বারা অপ্রহাণীয় কিন্তু প্রজ্ঞা দ্বারা দর্শনের মাধ্যমে প্রহাণযোগ্য ধর্ম। দ্বেষ-মোহ ও হচ্ছে কায় কিংবা বাক্য দ্বারা অপ্রহাণীয় কিন্তু প্রজ্ঞা দ্বারা দর্শনের মাধ্যমে প্রহাণযোগ্য ধর্ম। ক্রোধ, উপনাহ (দোষ অন্বেষণ), ম্রক্ষ (অন্যের নিন্দকারী), পলাস (ঘৃণা), মাৎসর্য (কৃপণতা) এ সমস্তও হচ্ছে কায় কিংবা বাক্য দ্বারা অপ্রহাণীয় কিন্তু প্রজ্ঞা দ্বারা দর্শনের মাধ্যমে প্রহাণযোগ্য ধর্ম।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, পাপ-ঈর্ষা (পরশ্রীকারতা) হচ্ছে কায় কিংবা বাক্য দ্বারা অপ্রহাণীয় কিন্তু প্রজ্ঞা দ্বারা দর্শনের মাধ্যমে প্রহাণযোগ্য ধর্ম। ভিক্ষুগণ, পাপ-ঈর্ষা কীরূপ? যেমন, গৃহপতি বা গৃহপতি পুত্রের ধন-ধান্য, স্বর্ণ-রৌপ্য বৃদ্ধি পেলে তথায় কোনো কোনো দাস বা অনাহারীর এরূপ চিন্তার উদ্রেক হয় যে ‘অহো, গৃহপতি বা গৃহপতিপুত্রের যাতে ধন-ধান্য, স্বর্ণ-রৌপ্য বৃদ্ধি না হয়।’ আবার, কোনো কোনো শ্রমণ-ব্রাহ্মণ চীবর, পিণ্ডপাত, শয্যাসন, ওষুধ প্রত্যয় ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যথেচ্ছা লাভ করলে অন্যান্য শ্রমণ-ব্রাহ্মণদের এরূপ চিন্তার উদ্রেক হয় যে ‘অহো, এরা চীবর, পিণ্ডপাত, শয্যাসন, ওষুধ প্রত্যয় ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যথেচ্ছা লাভ না করুক।’ ভিক্ষুগণ, একেই পাপ-ঈর্ষা বলে।
পুনশ্চ, ভিক্ষুগণ, পাপ ইচ্ছা বা আকাঙক্ষা হচ্ছে কায় কিংবা বাক্য দ্বারা অপ্রহাণীয় কিন্তু প্রজ্ঞা দ্বারা দর্শনের মাধ্যমে প্রহাণযোগ্য ধর্ম। ভিক্ষুগণ, পাপ ইচ্ছা কীরূপ? যেমন, জগতে কোনো কোনো বীতশ্রদ্ধ ভিক্ষু এরূপ ইচ্ছা বা আকাঙক্ষা পোষণ করে যে ‘আমাকে সকলে শ্রদ্ধাবান বলে জানুক’; কোনো কোনো দুঃশীল ভিক্ষু এরূপ ইচ্ছা বা আকাঙক্ষা পোষণ করে যে ‘আমাকে সকলে শীলবান বলে জানুক’; কোনো কোনো অল্পশ্রুত ভিক্ষু এরূপ ইচ্ছা বা আকাঙক্ষা পোষণ করে যে ‘আমাকে সকলে বহুশ্রুত বলে জানুক’; কোনো কোনো সংঘপ্রিয় ভিক্ষু এরূপ ইচ্ছা বা আকাঙক্ষা পোষণ করে যে ‘আমাকে সকলে প্রবিবেকসম্পন্ন (নির্জনবিহারী) বলে জানুক’; কোনো কোনো হীনবীর্য ভিক্ষু এরূপ ইচ্ছা বা আকাঙক্ষা পোষণ করে যে ‘আমাকে সকলে আরব্ধবীর্যবান বলে জানুক’; কোনো কোনো (ধর্ম-বিনয়ে) অমনোযোগী ভিক্ষু এরূপ ইচ্ছা বা আকাঙক্ষা পোষণ করে যে ‘আমাকে সকলে মনোযোগী বলে জানুক’; কোনো কোনো অসমাহিত চিত্তসম্পন্ন ভিক্ষু এরূপ ইচ্ছা বা আকাঙক্ষা পোষণ করে যে ‘আমাকে সকলে সমাহিত চিত্তসম্পন্ন বলে জানুক’; কোনো কোনো দুষপ্রাজ্ঞ ভিক্ষু এরূপ ইচ্ছা বা আকাঙক্ষা পোষণ করে যে ‘আমাকে সকলে প্রজ্ঞাবান বলে জানুক’; কোনো কোনো আসবযুক্ত বা আসক্তিপরায়ণ ভিক্ষু এরূপ ইচ্ছা বা আকাঙক্ষা করে যে ‘আমাকে সকলে (বিষয় আশয়ে) অনাসব বা আসবমুক্ত বলে জানুক।’ ভিক্ষুগণ, ইহাকে পাপ ইচ্ছা বলে। ভিক্ষুগণ, এগুলো হচ্ছে কায় কিংবা বাক্য দ্বারা অপ্রহাণীয় কিন্তু প্রজ্ঞা দ্বারা দর্শনের মাধ্যমে প্রহাণীয় ধর্ম।
৫। যদি ভিক্ষুগণ, সেই ভিক্ষুকে লোভ বিহ্বল (অভিভূত) করে বিচলিত করে; দ্বেষ, মোহ, ক্রোধ, উপনাহ বিহ্বল (অভিভূত) করে বিচলিত করে; ম্রক্ষ, পলাস, মাৎসর্য, পাপ-ঈর্ষা ও পাপ-আকাঙক্ষায় বিহ্বল (অভিভূত) করে বিচলিত করে; তবে তার এরূপ জ্ঞাত হওয়া উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন না, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে লোভ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে লোভ অভিভূত করে বিচলিত করে।’ তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন না, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে দ্বেষ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে দ্বেষ অভিভূত করে বিচলিত করে।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন না, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে মোহ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে মোহ অভিভূত করে বিচলিত করে।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন না, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে ক্রোধ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে ক্রোধ অভিভূত করে বিচলিত করে।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন না, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে উপনাহ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে উপনাহ অভিভূত করে বিচলিত করে।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন না, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে ম্রক্ষ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে ম্রক্ষ অভিভূত করে বিচলিত করে।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন না, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে পলাস উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে পলাস অভিভূত করে বিচলিত করে।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন না, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে মাৎসর্য উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে মাৎসর্য অভিভূত করে বিচলিত করে।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন না, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে পাপ-ঈর্ষা উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে পাপ-ঈর্ষা অভিভূত করে বিচলিত করে।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন না, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে পাপ-আকাঙক্ষা উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে পাপ-আকাঙক্ষা অভিভূত করে বিচলিত করে।’
৬। যদি ভিক্ষুগণ, সেই ভিক্ষুকে লোভ বিহ্বল না করে বিচলিত না করে; দ্বেষ, মোহ, ক্রোধ, উপনাহ বিহ্বল না করে বিচলিত না করে; ম্রক্ষ, পলাস, মাৎসর্য, পাপ-ঈর্ষা ও পাপ-আকাঙক্ষায় বিহ্বল না করে ও বিচলিত না করে; তবে তার এরূপ জ্ঞাত হওয়া উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে লোভ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে লোভ অভিভূত করে না এবং বিচলিত করে না।’ তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে দ্বেষ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে দ্বেষ অভিভূত করে না এবং বিচলিতও করে না।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে মোহ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে মোহ অভিভূত করে না এবং বিচলিতও করে না।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে ক্রোধ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে ক্রোধ অভিভূত করে না এবং বিচলিতও করে না।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে উপনাহ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে উপনাহ অভিভূত করে না এবং বিচলিতও করে না।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে ম্রক্ষ উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে ম্রক্ষ অভিভূত করে না এবং বিচলিতও করে না।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে পলাস উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে পলাস অভিভূত করে না এবং বিচলিত করে না।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে মাৎসর্য উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে মাৎসর্য অভিভূত করে না এবং বিচলিত করে না।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে পাপ-ঈর্ষা উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে পাপ-ঈর্ষা অভিভূত করে না এবং বিচলিত করে না।’
পুনশ্চ, তার এরূপ জ্ঞাত থাকা উচিত যে ‘এই আয়ুষ্মান তা প্রকৃষ্টরূপে জানেন, যা প্রকৃষ্টরূপে জ্ঞাত থাকলে পাপ-আকাঙক্ষা উৎপন্ন হয় না। সেহেতু আয়ুষ্মানকে পাপ-আকাঙক্ষা অভিভূত করে না এবং বিচলিতও করে না।”