Followers

Thursday, January 26, 2017

উপনিশ্রয় প্রত্যয় ধর্মসমূহ

              উপনিশ্রয়-প্রত্যয়

    উপনিশ্রয় প্রত্যয় তিন প্রকার, যথা- আলম্বনোপনিশ্রয়, অনন্তরোপনিশ্রয় ও প্রকৃতি উপনিশ্রয়। তন্মধ্যে আলম্বনোপনিশ্রয় আলম্বনাধিপতি সদৃশ এবং অনন্তরোপনিশ্রয় অনন্তর প্রত্যয় সদৃশ।
    প্রকৃতি-উপনিশ্রয় কিরূপ? অতীত, অনাগত, বর্তমান, আধ্যাত্ম ও বাহ্যভূত চিত্ত চৈতসিক ধর্ম, রূপ, নির্বাণ ও প্রজ্ঞপ্তি সমস্তই বর্তমানকালীয় সর্ববিধ চিত্ত চৈতসিক ধর্মের যথোপযুক্ত ভাবে প্রকৃতি উপনিশ্রয় প্রত্যয় হয়।
    তথায় বুদ্ধ, ধর্ম ও আর্যশ্রাবকগণ যাঁরা বহুকাল অতীতে পরিনির্বাপিত হয়েছেন, তাঁরা গুরুশিষ্য পরম্পরা আমাদের মতো পরবর্তী প্রজন্মের কুশল উৎপত্তির জন্য প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয় হয়। তদ্রুপ পৃথিবীতে অতীতে কালগত হয়েছেন এমন মাতাপিতা, আচার্য, পণ্ডিত শ্রমণ-ব্রাহ্মণ, বিখ্যাত অন্যতীর্থিয় আচার্যগণ, মহাপ্রতাপশালী মহানুভব প্রাচীন রাজাগণ, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কুশল, অকুশল ও সুখণ্ডদুঃখ উৎপত্তির জন্য প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয় হয়। তাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের কল্যাণের জন্য বহুবিধ সদ্ধর্ম প্রজ্ঞপ্তি, অসদ্ধর্ম প্রজ্ঞপ্তি অথবা নানাবিধ লোকহিতমূলক কাজ পূর্বে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তী প্রজন্ম তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দান-শীল-ভাবনাদি কুশল কর্ম, লোকাচার, কুলাচার, গোত্রাচার, নানা মতবাদ, নানা কর্মায়তন, শিল্পায়তন, বিদ্যায়, যথাপ্রতিষ্ঠিত গ্রাম, নিগম, ক্ষেত্রভূমি,   দীঘি, পুষ্করিণী, বিশাল বিশাল বনভূমি, গৃহ, রথ, শকট, নৌকা, স্বর্ণ, রৌপ্য, মণি, মুক্তা প্রভৃতির উত্তরাধিকারী হয়ে পৃথিবীতে সেগুলোর শ্রীবৃদ্ধি সাধন করে থাকে। অনাগতে মৈত্রেয় (আর্যমিত্র) বুদ্ধ, তাঁর প্রবর্তিত ধর্ম এবং তৎপ্রতিষ্ঠিত সংঘও অনুরূপভাবে বহু মানুষের পুণ্য পারমী উৎপত্তির জন্য প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয় হয়। তদ্রুপ এই জন্মের পরবর্তীকালে প্রাপ্তব্য আধিপত্য, প্রভূত বিত্ত-বৈভব সম্পত্তি পূর্ববর্তী বহু মানুষের নানা কর্মানুষ্ঠানের প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয় হয়। অনাগত জন্মে উপভোগ্য ভবসম্পত্তি, ভোগসম্পত্তি, মার্গফল, নির্বাণ সম্পত্তি প্রভৃতি পুণ্যকর্মের প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয় হয়। যেমন, মানুষেরা হেমন্তকালে ধান্যফল লাভ করব এই আশায় বর্ষাকালে ক্ষেত্রকর্ষণ, শষ্যবপন প্রভৃতি কর্ম শুরু করে দেয় অথবা কর্ম সাফল্যমণ্ডিত হলে প্রভূত ধন-সম্পত্তি লাভ করব এই আশায় আগে থেকেই সুকৌশলে কর্মপ্রয়াস শুরু করে দেয়। তথায় ধান্যফল লাভ ও ধন-সম্পত্তি লাভ সেই সেই কর্ম প্রচেষ্টার অনাগত প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয় এবং সেই সেই কর্ম প্রচেষ্টা ধান্যফল লাভের ও ধন-সম্পত্তি লাভের অতীত প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয়। অনুরূপভাবে নানাবিধ কর্মের ভাবী সুফল দেখতে পাওয়ায় ও আকাঙ্খা করায় বহু মানুষ বর্তমানে নানাবিধ পুণ্যকর্ম সম্পাদন করে। তথায় পুণ্যফল হচ্ছে পুণ্যকর্মের অনাগত প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয়। আর পুণ্যকর্ম হচ্ছে পুণ্যফলের অতীত প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয়। অতএব অনাগত প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয়ও অতীত প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয়ের ন্যায় অত্যন্ত মহৎ প্রত্যয়।
    বর্তমানকালের বুদ্ধগণ, দেব-মনুষ্য-ব্রহ্মাগণ ও মাতাপিতাগণ তাঁদের বর্তমান কালের জীবিত পুত্র- কন্যাদিগের বর্তমান প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয় হয়। ইহাই সুবিদিতই।
    বুদ্ধাদি জীবিত সত্ত্বগণের উৎপন্ন প্রত্যয় ধর্মই হচ্ছে আধ্যাত্মভূত প্রকৃতি-উপনিশ্রয় ধর্ম। আর বাহ্যভূত প্রকৃতি-উপনিশ্রয় প্রত্যয় হচ্ছে সত্ত্বগণের প্রতিষ্ঠাস্বরূপ পৃথিবী, পর্বত, নদী, সমুদ্র প্রভৃতি এবং সেই সেই সত্ত্বগণের বহু উপকারী অরণ্য, বন, বৃক্ষ, তৃণ, লতাপাতা, পূর্বাহ্ন, অপরাহ্ন, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, জল, অগ্নি, বাতাস, শীত, উষ্ণা প্রভৃতি। উক্ত সমস্ত কিছুই সত্ত্বগণের কুশল, অকুশল ও সুখণ্ডদুঃখ উৎপত্তির বলবান প্রত্যয় হয়।
    এই সমস্ত মানুষ যদি ‘‘দৃষ্টধর্মে তথা ইহ জীবনেই পরিনির্বাণ লাভ করব’’ এই ভেবে সপ্তত্রিংশ বোধিপক্ষীয় ধর্ম ভাবিত করে অথবা অনাগত বুদ্ধের সময়ে পরিনির্বাণ লাভ করব এই ভেবে পারমী সম্ভার পূরণ করে, তখন নির্বাণই তাদের সেই ধর্মসমূহের উৎপত্তির জন্য বলবান প্রত্যয় হয়।
    পৃথিবীতে নানাবিধ ব্যবহারিক ক্ষেত্রের নাম-প্রজ্ঞপ্তি এবং বুদ্ধশাসনে ত্রিপিটক পরিয়ত্তি ধর্মের অন্তর্গত নাম-প্রজ্ঞপ্তিও সেই সমস্ত অর্থ জানার জন্য বলবান প্রত্যয় হয়।
    তথায় ‘সংস্কৃত-ধর্ম’ অর্থে যেই ধর্ম প্রত্যয় বিদ্যমান থাকলে উৎপন্ন হয় আর বিদ্যমান না থাকলে উৎপন্ন হয় না। উৎপন্ন হওয়ার পরও প্রত্যয় বিদ্যমান থাকলে টিকে থাকতে পারে আর প্রত্যয় বিদ্যমান না থাকলে টিকে থাকতে পারে না। তাই সেই সমস্ত সংস্কৃত ধর্মের উৎপত্তি বা সি'তির জন্য প্রত্যয় আবশ্যক। নির্বাণ ও প্রজ্ঞপ্তি কিন্তু অসংস্কৃত ধর্ম, যার জন্মও নেই, উৎপত্তিও নেই, ধ্বংসও নেই এবং যা যা নিত্য, ধ্রুব, শাশ্বত। তাই সেই অসংস্কৃত ধর্মের উৎপত্তি বা সি'তির জন্য প্রত্যয় প্রয়োজন হয় না।
    কুশল কুশলের উপনিশ্রয়। শ্রদ্ধার উপনিশ্রয়ে দান দেয়, শীল গ্রহণ করে প্রভৃতি সুবিদিত। তদ্রুপ রাগ তথা লোভের উপনিশ্রয়ে প্রাণী হত্যা করা হয়, চুরি করা হয় প্রভৃতি; উপযুক্ত ঋতু ও ভোজনের উপনিশ্রয়ে কায়িক সুখানুভব হয় প্রভৃতি এবং অকুশল অকুশলের ও অব্যাকৃত অব্যাকৃতের উপনিশ্রয় হ। ইহাও সুবিদিত।
    তবে কুশল অকুশললেরও বলবান উপনিশ্রয় হয়। যেমন দান করার পর সেই দানের দ্বারা আত্মপ্রশংসা করে এবং পরকে অবজ্ঞা করে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। তদ্রুপ শীল পালন করে, সমাধি উৎপন্ন করে এবং প্রজ্ঞাবান হয়েও আত্মপ্রশংসা করে এবং পরকে অবজ্ঞা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।
    কুশল অব্যাকৃতেরও বলবান উপনিশ্রয় হয়। যেমন চারি ভূমির সমস্ত কুশল কর্ম বা তদন্তর্গত অন্যান্য কুশলসমূহ কালান্তরে চারি ভূমির বিপাক হয়ে অব্যাকৃতের বলবান উপনিশ্রয় হয়। দানপারমী পূরণ করার সময় মানুষ বহু কায়িক দুঃখ ভোগ করে। তদ্রুপ শীলপারমী, নৈষ্ক্রম্য পারমী, প্রজ্ঞা পারমী, বীর্যপারমী, ড়্গান্তি পারমী, সত্য পারমী, অধিষ্ঠান পারমী, মৈত্রী পারমী, উপেড়্গা পারমী পূরণ করার সময়ও মানুষ বহু কায়িক দুঃখ ভোগ করে। ধ্যান-ভাবনা, মার্গ-ভাবনা প্রভৃতি সম্বন্ধেও তদ্রুপ।
    আবার অকুশলও কুশলের বলবান উপনিশ্রয় হয়। কেহ কেহ পাপ করার পর পরবর্তীতে উৎকণ্ঠিত হয়ে সেই পাপকে ক্ষয় করার জন্য দান, শীল, ধ্যান, মার্গ প্রভৃতি কুশল কর্ম সম্পাদন করে। সেই পাপই তাদের সেই কুশল কর্মের বলবান উপনিশ্রয় হয়।
    অকুশল অব্যাকৃতেরও বলবান উপনিশ্রয় হয়। বহু মানুষ আছে যারা নানা দুষ্কর্ম করে চারি অপায়ে পতিত হয়ে অপায় দুঃখ ভোগ করতেছে। এমনকি ইহ জীবনেই কেহ কেহ নিজের বা পরের দুষ্কর্মের কারণে বহু দুঃখ ভোগ করতেছে। কেহ কেহ দুষ্কর্মের দরুণ প্রভূত বিত্তসম্পত্তি লাভ করে সুখ ভোগ করতেছে। বহু মানুষ রাগ বা লোভমূলক বহু দুঃখ ভোগ করতেছে। তদ্রুপ দ্বেষমূলক, দৃষ্টিমূলক, মানমূলক বহু দুঃখ ভোগ করতেছে।
    আবার অব্যাকৃতও কুশলের বলবান উপনিশ্রয় হয়। ধন-সম্পত্তি প্রাপ্তির জন্য দান দেয়, শীল পরিপূর্ণ করে, প্রজ্ঞা পরিপূরণ করে, ভাবনার উপযোগী আবাস, লেন, গুহা, বৃক্ষ, অরণ্য, পর্বত বা ভিড়্গাচর্যার গ্রাম, উপযুক্ত ঋতু, উপযুক্ত আহার লাভ করে সেই সেই ভাবনা অনুশীলন করে থাকে।
    অব্যাকৃত অকুশলেরও বলবান উপনিশ্রয় হয়। মানুষ পৃথিবীতে চক্ষু সম্পদের আশ্রয়ে বহু দর্শনমূলক অকুশল উৎপন্ন করে থাকে। শ্রোত্র সম্পদ (কর্ণ), ঘ্রাণ সম্পদ (নাক), জিহ্বা সম্পদ, কায় সম্পদ প্রভৃতি সম্বন্ধেও অনুরূপ। তদ্রুপ হস্ত সম্পদ। পাদসম্পদ, শস্ত্রসম্পদ, তলোয়ার সম্পদ প্রভৃতি সম্বন্ধেও বলা যেতে পারে। এভাবেই উপনিশ্রয় প্রত্যয় ত্রিবিধ হয়।
    এখন সূত্রোক্ত উপনিশ্রয়ের কথা বলা হচ্ছে। কল্যাণমিত্রের উপনিশ্রয়ে পাপমিত্রের উপনিশ্রয়ে, গ্রামের উপনিশ্রয়ে, অরণ্যের উপনিশ্রয়ে প্রভৃতি বহুভাবেই ইহা আলোচিত। অপরদিকে কর্ম, চিত্ত, ঋতু, বীজ ও ধর্মনিয়ম এই পঞ্চনিয়ম ধর্ম সত্ত্বলোক, সংস্কার লোক, অবকাশ লোক নামক তিন লোকের অবিচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হওয়ার বলবান প্রত্যয় হয়। ইহার বিসত্মারিত অর্থ নিয়ম দীপনীতে আলোচিত হয়েছে।
    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কি অর্থে ‘আলম্বনোপনিশ্রয়’ বলা হয়? অধিপতিভূত আলম্বনই আলম্বন-স্বভাব সম্পন্ন ধর্মসমূহের বলবান নিশ্রয় বা আশ্রয় হয় এই অর্থে ‘আলম্বনোপনিশ্রয়’।
    কি অর্থে ‘অনন্তরোপনিশ্রয়’ বলা হয়? পূর্ববর্তী অনন্তর চিত্তই পরবর্তী অনন্তর চিত্ত উৎপত্তির জন্য বলবান নিশ্রয় বা আশ্রয় হয় এই অর্থে ‘অনন্তরোপনিশ্রয়’। এক্ষেত্রে পূর্বচিত্ত হচ্ছে মাতা সদৃশ আর পরচিত্ত হচ্ছে পুত্র সদৃশ। মাতা যেমন নিজের অনন্তরে পুত্রের উৎপত্তির জন্য বলবান উপনিশ্রয় হয়, তদ্রুপ পূর্বচিত্তই পরচিত্ত উৎপত্তির জন্য বলবান উপনিশ্রয় হয়।
   কি অর্থে ‘প্রকৃতি-উপনিশ্রয়’ বলা হয়? পণ্ডিতগণের দ্বারা পৃথিবীতে স্বাভাবিক নিয়মে প্রকটিত উপনিশ্রয়ই হচ্ছে ‘প্রকৃতি-উপনিশ্রয়’। এক্ষেত্রে স্মর্তব্য এই যে, অনন্তরোপনিশ্রয়ের প্রভাব শুধু অনন্তর চিত্তেই প্রসারিত হয়। আর প্রকৃতি-উপনিশ্রয়ের প্রভাব কিন্তু অনেক দূর পর্যন্ত প্রসারিত হয়। যেমন এই জন্মে বিগত কোন দিনে বা মাসে অথবা বৎসরে দেখা, শোনা, ঘ্রাণ নেওয়া, আস্বাদন করা, স্পর্শ করা বা জ্ঞান হওয়া কোন বিষয় পরবর্তী সময়ে উপযুক্ত প্রত্যয় লাভে শতবর্ষ পরেও মনোদ্বারে উপস্থিত হয়। তার অর্থ হচ্ছে এই, পূর্বে দৃষ্ট, শ্রুত বিষয়াদিই সত্ত্বগণ অনুস্মরণ করছে। ঔপাপাতিক সত্ত্বগণ কিন্তু আগের জন্মও স্মরণ করতে পারে। তদ্রুপ মানুষের মধ্যেও কিছু সংখ্যক জাতিস্মর জ্ঞানলাভী আছেন যারা পূর্বজন্ম অনুস্মরণ করতে পারেন। তদ্রুপ অতীতে দৃষ্ট, শ্রুত প্রভৃতি অনেক শতসহস্র বিষয়াদির মধ্যে পরবর্তী সময়ে মাত্র একক্ষণে কোন একটি বিষয় দেখলে বা শুনলে মুহুর্তের মধ্যেই বহু মনোবিজ্ঞান (চিত্ত) দ্রুত প্রসারিত হয়ে উৎপন্ন হয়ে থাকে।

                      অভিধর্মার্থ কথা

নির্বাণ যুক্তিযুক্ত তর্ক-পর্ব

নিরোধ নির্বাণ প্রশ্ন-মীমাংসা

রাজা বললেন-ভন্তে, নিরোধ হওয়াই নির্বাণ কি? হাঁ মহারাজ। ভন্তে, নিরোধ হওয়াই যে নির্বাণ তাহা কিরূপ? মহারাজ, এই জগতে যত অজ্ঞ ব্যক্তি আছে, সকলেই ভিতরের বাহিরের চক্ষু রূপাদি আয়তনকে অভিনন্দন করে, প্রশংসা করে এবং সেই আয়তনে আসক্ত হয়ে থাকে। তাহারা সেই স্রোতে ডুবে যায়। জন্ম-জরা-মরণ-শোক-পরিদেবন-দুঃখ-দৌর্মনস্য-উপায়াস হইতে মুক্তিলাভ করে না। সেই কারণে সেই দুঃখ হইতে অব্যাহতি পায় না বলে বলছি। যিনি জ্ঞানবান আর্যশ্রাবক তিনি কখনও ঐ ভিতর-বাহির আয়তনকে ভালবাসেই না, তাহাতে প্রশংসাযোগ্য কিছুই দেখেন না। উহাতে আসক্তও হন না, এই কারণে তাঁহার তৃষ্ণা নিরোধ হয়, তৃষ্ণার নিরোধে উপাদান নিরোধ হয়, উপাদানের নিরোধে ভব নিরোধ হয়, ভবের নিরোধে জন্ম নিরোধ হয়, জন্মের নিরোধে জরা-মরণ-শোক-পরিদেবন-দুঃখ দৌর্মনস্য উপায়াস নিরুদ্ধ হয়। এই প্রকারে যাবতীয় দুঃখরাশির নিরোধ হয়। এই কারণেই মহারাজ, নিরোধ হওয়াই নির্বাণ। ভন্তে, আপনি সুদক্ষ।

নির্বাণ লাভ প্রশ্ন-মীমাংসা

রাজা বলিলেন- ভন্তে, সকলেই নির্বাণ লাভ করে কি? না মহারাজ, সকলেই নির্বাণ লাভ করে না। কিন্তু মহারাজ, যিনি সম্যকরূপে ধর্ম-নীতি রক্ষা করেন অর্থাৎ যাহা অভিজ্ঞেয় পরিজ্ঞেয় দুঃখ সত্য, তাহা জানেন। যাহা পরিত্যাজ্য সমুদয় সত্য, তাহা পরিত্যাগ করেন। যাহা ভাবনীয় মার্গ সত্য তাহা ভাবনা করেন। যাহা প্রত্যক্ষ করণীয় নিরোধ সত্য, তাহা প্রত্যক্ষ করেন। তিনিই নির্বাণ লাভ করেন। ভন্তে, আপনি সুদক্ষ।

নির্বাণ অলাভেও সুখবোধ প্রশ্ন-মীমাংসা

রাজা বলিলেন- ভন্তে, যে নির্বাণ লাভ করে নাই, সে কি নির্বাণের সুখ জানিতে পারে? হাঁ মহারাজ, জানিতে পারে; কি প্রকারে জানিতে পারে? কেমন মহারাজ, যাহাদের হস্ত-পদ ছিন্ন হয় নাই, তাহারা কি জানিতে পারে, হস্তপদ ছিন্ন হইলে দুঃখ আছে? হাঁ ভন্তে, জানে। কি প্রকারে জানে? ভন্তে, হস্ত পদ ছিন্ন হইয়া যাহারা বিলাপ করিতেছে, তাহাদের শব্দ শুনিয়া তাহাতে যে দুঃখ আছে এই কারণে জানিতে পারে। এই প্রকার মহারাজ, যাঁহারা নির্বাণ দর্শন করিয়াছেন, তাঁহাদের শব্দ শুনিয়া, নির্বাণে যে সুখ আছে, উহা সে জানিতে পারে। ভন্তে, আপনি সুদক্ষ।

Saturday, January 14, 2017

অকুশল কর্ম উচ্ছেদপূর্বক সর্বজ্ঞতা


                       অকুশল কর্ম উচ্ছেদপূর্বক সর্বজ্ঞতা প্রাপ্তি প্রশ্ন-মীমাংসা

ভন্তে, বুদ্ধ সমস্ত অকুশল দগ্ধ করে সর্বজ্ঞতা প্রাপ্ত হয়েছেন? না অকুশল অবশিষ্ট রেখে প্রাপ্ত হয়েছেন? মহারাজ, সমস্ত অকুশল দগ্ধ করে, তিনি সর্বজ্ঞ হয়েছেন। একটি বিন্দু অকুশলও তাঁহার অবশিষ্ট নাই। ভন্তে, কোনদিন বুদ্ধের শরীরে দুঃখ বেদনা জাত হয়েছে কি? হাঁ মহারাজ, যখন রাজগৃহে ভগবানের পদ পাষাণদ্বারা ক্ষত হয়েছিল তখন তাঁহার রক্তাতিসার রোগ উৎপন্ন হয়েছিল। শরীর দোষযুক্ত হইলে কবিরাজ জীবক বিরেচন দিয়েছেন,যখন তাঁহার বাত ব্যাধি হয়, তখন সেবক স্থবির গরম জল সজ্জিত করে দিয়েছেন। যদি ভন্তে, যাবতীয় অকুশল দগ্ধ করিয়া বুদ্ধ সর্বজ্ঞ হন, তাহা হইলে তাঁহার পায়ে পাথরের ঘা হইবে, রক্তাতিসার হইবে, এই যে বচন তাহা মিছা। যদি এই বিপদ তাঁহার উপর হয়ে থাকে, তিনি যে অকুশল দগ্ধ করে সর্বজ্ঞ হয়েছেন তাহাও মিছা। ভন্তে, কর্ম বিনা কি কিছু ভোগ হইতে পারে? সমস্ত অনুভূত বিষয় কর্মমূলক। কর্মই অনুভূতি প্রদান করে। ইহাও উভয় সমস্যার বিষয়, মীমাংসা করুন।
মহারাজ, সমস্ত অনুভূতি কর্মমূলক নহে। আট প্রকার কারণে ঐ কর্ম- ফল ভোগ করতে হয়, যেই বেদনা বহু প্রাণী ভোগতে থাকে। সেই আট প্রকার কি? কোন কোন প্রাণী বাতজ, পিত্তজ, শ্লেষ্মজ, সন্নিপাতজ, ঋতুজ, বিরুদ্ধ আহার বিহার জাত, পরের উপক্রমজাত ও কর্মবিপাক জাত ব্যাধি ভোগ করে থাকে। তন্মধ্যে কর্ম সেই সত্ত্বদিগকে পীড়িত করে, তাহারা যে রোগের হেতুকে বিনাশ করে, তাহাদের সেই বচন মিথ্যা। ভন্তে, বাতজ হইতে উপক্রম জাত ব্যাধি পর্যন্ত যে সাত প্রকার ব্যাধি, এই সমস্ত কর্মফলেই উৎপাদিত, তাই এই ব্যাধিসমূহ কর্মজাত বলতে হবে। মহারাজ, যদি সমস্তই কর্মজাত ব্যাধি হয়, তাহা হইলে এইগুলির একটা বিভিন্ন প্রকার লক্ষণ দেখা যাইত না।
মহকারুণিক গৌতম বুদ্ধ

মহারাজ, শীত, উষ্ণ, ক্ষুধা, পিপাসা, অতিভোজন, স্থান ভেদ, অতিরিক্ত পরিশ্রম, আধাবন, উপক্রম ও কর্ম বিপাক এই দশটি কারণে বায়ু কোপিত হয়। কর্ম বিপাক ব্যতীত নয়টি কারণ অতীতেও ছিল না, ভবিষ্যতে এইগুলি হইবে না। শুধু বর্তমান ভবেই উৎপন্ন হয়। সেই কারণে এইরূপ বলবেন না যে সমস্ত বেদনা কর্ম-জাত।
মহারাজ, তিনটি কারণে পিত্ত কোপিত হয়-শীত, উষ্ণ ও বিরুদ্ধ ভোজনদ্বারা। তিনটি কারণে শ্লেষ্মা কোপিত হয়-শীত, উষ্ণ ও অন্ন পানীয়দ্বারা। মহারাজ, যাহা বায়ুকর, যাহা পিত্তকর ও যাহা শ্লেষ্মাকর উহারা স্বীয় স্বীয় কারণে কোপিত হয়ে মিশ্রিত হইয়া স্বীয় স্বীয় বেদনা আকর্ষণ করে থাকে। ঋতু পরিবর্তনে যে বেদনা তাহা ঋতুযোগে উৎপন্ন হয়। একস্থানে এক ঘরে, বদ্ধঘরে বহুদিন বাস করার দরুন যে বেদনা উৎপন্ন হয়, তাহা বিরুদ্ধ আহার বিহারেই হয়। ঔপক্রমিক রোগটি দুই প্রকারে হয়। অপরের ক্রিয়া প্রয়োগে ও কর্ম বিপাকে জাত হয়। কর্ম বিপাকজ বেদনা পূর্বকৃত কর্মফলে হয়ে থাকে। এই আটটি কারণে মহারাজ, কর্ম বিপাক জাত অল্প, বেশীরভাগ অপরাপর কারণে হয়। যাহারা মূর্খ তাহারা মনে করে, সমস্ত কর্ম বিপাক জাত। সেই কর্মফলের ব্যবস্থা বুদ্ধজ্ঞানে ব্যতীত অন্য কাহারও নির্ণয় করবার সাধ্য নাই।
মহারাজ, ভগবানের পায়ে যে পাথর পড়ে ক্ষত হয়ে থাকে, সেই অনুভূতি বায়ুজ, পিত্তজ, শ্লেষ্মজ, সন্নিপাতজ, ঋতু পরিবর্তন জাত, বিরুদ্ধ আহার-বিহার জাত ও কর্ম বিপাক জাত ব্যাধি নহে। তাহা পরের উপক্রমবলেই হইয়াছে বলিয়া ঔপক্রমিক বেদনা। মহারাজ, বহুলক্ষ বৎসর ব্যাপিয়া দেবদত্ত বুদ্ধের প্রতি শত্রর্বতা আচরণ করিয়া আসিতেছিল, দেবদত্ত সেই আক্রোশে বৃহৎ শিলাখণ্ড বুদ্ধের মাথায় ফেলিবার ইচ্ছায় ছুড়েছিল। তৎক্ষণাৎ দুইটি শৈল এসে বুদ্ধের মাথায় না পড়িতেই আটক করেছিল। সেই পর্বত দুইটির পরস্পর সঙ্ঘাতে একটুকরা পাথরকণা উঠিয়ে ভগবানের পায়ে পড়ে, উহাতে সামান্য রক্ত দেখা দিয়েছিল। মহারাজ, হয়ত কর্ম বিপাকে, নচেৎ ক্রিয়া হইতে বুদ্ধের বেদনা হয়েছিল, তাহা ছাড়া অন্য বেদনা নহে। যেমন মহারাজ, হয় ক্ষেত্রের দোষে বীজ গজায় না, নয় বীজের দোষে। যেমন হয়ত উদরের দোষে ভোজন জীর্ণ হয় না, নচেৎ আহারের দোষে। কিন্তু মহারাজ, এই কথা ঠিক যে বুদ্ধের কর্ম বিপাক বেদনা নাই ও আহার বিহার বেদনাও নাই। অবশিষ্ট কারণে ভগবানের বেদনা উৎপন্ন হইতে পারে, কিন্তু সেই বেদনাদ্বারা বুদ্ধের জীবন নাশ সম্ভব নহে। মহারাজ, এই চারিভূতযুক্ত কায়ে ইষ্টানিষ্ট ও শুভাশুভ বেদনা দেখা দিবেই। যেমন আকাশে ঢিল ছুঁড়িলে মাটীতে পড়া স্বাভাবিক, তাই বলিয়া কি পূর্বকৃত কর্মে ঢিল মাটিতে পড়ে? না ভন্তে, এমন কোন হেতু মহাপৃথিবীর নাই, যেহেতু মহাপৃথিবী কুশলাকুশল বিপাক অনুভব করিতে পারে। কেবল বর্তমান অকর্মক হেতুদ্বারা সেই ঢিল পৃথিবীতে পড়ে মাত্র। এই উপমায় যেমন মহাপৃথিবী তেমন বুদ্ধ। যেমন ঢিল স্বভাবতঃ মহাপৃথিবীতে পড়ে, এই প্রকার বুদ্ধের পূর্বে অকৃত কর্মদ্বারা সেই শিলাখণ্ড পায়ে পড়িয়াছে। মহারাজ, এই জগতে মনুষ্যেরা মহাপৃথিবীকে ভেদ করে, খনন করে, তাই বলিয়া কি তাহারা পূর্বের কৃত পৃথিবীকে ভেদ করে ও খনন করে? না ভন্তে, এই প্রকার মহারাজ, যেই শিলাখণ্ড ভগবানের পায়ে পড়েছিল, তাহা পূর্বকৃত কর্মদ্বারা বুদ্ধের পায়ে পড়ে নাই। বুদ্ধের নিকট যে রক্তাতিসার হল, তাহাও পূর্বকৃত কর্মদ্বারা হয় নাই। তাহা সন্নিপাতবলেই হয়েছে। ভগবানের যাহা কিছু কায়িক রোগ হয়, সেই সমস্ত কর্মফলে হয় না। ষড়বিধ কারণের অন্যতম কারণেই হয়ে থাকে।
তাই ভগবান সংযুক্ত নিকায়ে ‘মোলিয় সীবক, বর্ণনায় বলেছেন- “সীবক, এই শরীরে যাহা কিছু অনুভূতি জাত হয়, তুমি তাহা নিজেই জ্ঞাত হইবে, যেমন কোন কোন ব্যক্তির পিত্তরোগাদি উৎপন্ন হইয়া থাকে। জগতেও ইহা সত্যসম্মত যে, পিত্তরোগে অনেকে দুঃখ ভোগে। ইহার মধ্যে কোন কোন শ্রমণ-ব্রাহ্মণ এইরূপ বাদী ও এইরূপ দৃষ্টিসম্পন্ন আছে, এই পুরুষ সুখ-দুঃখ উপেক্ষা যে ভোগিতেছে, তৎ-সমস্ত পূর্বকৃত কর্মহেতু। ইহাতে যাহা নিজে জানে তাহাও অতিক্রম করে, যাহা লোকে সত্যসম্মত, তাহাও অতিক্রম করে, সেই কারণে আমি এই শ্রমণ-ব্রাহ্মণদিগের মতকে মিথ্যা বিশ্বাস বলিতেছি।” এই কারণে মহারাজ সমস্ত বেদনা কর্ম বিপাকজ নহে। সমস্ত অকুশল দগ্ধ করিয়া বুদ্ধ সর্বজ্ঞতা প্রাপ্ত বলিয়া ধারণা করুন। সাধু ভন্তে, তাহাতে আমি সম্মতি প্রকাশ করিতেছি।

Friday, January 6, 2017

ven. Ajahn Brahmavamso reflects on Buddhism's en

Ven. Ajahn Brahmavamso reflects on Buddhism’s enduring
significance
 I used to be a scientist. I did Theoretical Physics at Cambridge University, hanging out in the same building as the later-to-be-famous Professor Stephen Hawking. I became
disillusioned with such science when, as an insider, I saw how dogmatic some scientists could be. A dogma, according to the dictionary, is an arrogant declaration of an opinion. This was a fitting description of the science that I saw in the labs of Cambridge. Science had lost its sense of humility. Egotistical opinion prevailed over the impartial search for Truth. My favourite aphorism from that time was: "The eminence of a great scientist, is
measured by the length of time that they OBSTRUCT
PROGRESS in their field"!
To understand real science, one can go back to one of its founding fathers, the English philosopher Francis Bacon (1561 - 1628). He established the framework on which science was to progress, namely "the greater force of the negative instance". This meant that, having proposed a theory to explain some natural phenomenon, then one
should try one's best to disprove it! One should test the theory with challenging experiments.
One must put it on trial with rigorous argument. When a flaw appears in the theory, only then does science advance. A new discovery has been made enabling the theory to be adjusted and refined. This fundamental and original methodology of science understood that it is impossible to prove anything with absolute certainty. One can only disprove with absolute certainty.
Some misguided scientists maintain the theory that there is no rebirth, that this stream of consciousness is incapable of returning to a successive human existence. All one needs to
disprove this theory, according to science, is to find one instance of rebirth, just one! Professor Ian Stevenson, as some of you would know, has already demonstrated many
instances of rebirth. The theory of no rebirth has been disproved. Rebirth is now a scientific fact! Ordinary people know so little about science that they can hardly even understand the jargon. Yet, if they read in a newspaper or magazine "a scientist says that?", then they automatically take it to be true. Compare this to our reaction when we read in the same  journal "a politician says that?"! Why do scientists have such unchallenged credibility? Perhaps it is because the language and ritual of science has become so far removed from the common people, that scientists have become today's revered and mystical priesthood. Dressed in their ceremonial white lab coats, chanting incomprehensible mumbo jumbo about multi-dimensional fractal parallel universes, and performing magical rituals that transubstantiate metal and plastic into TV's and computers, these modern day alchemists are so awesome we'll believe anything they say.
Elitist science, as once was the Pope, is now infallible. Some know better. Much of what I learnt 30 years ago has now been proved wrong. There are, fortunately, many scientists with integrity and humility who affirm that science is, at best, a work still in progress. They know that science can only suggest a truth, but can never claim a truth. I was once told by a Buddhist G.P. that, on his first day at a medical school in Sydney, the famous Professor, head of the Medical School, began his welcoming address by stating "Half of what we are going to teach you in the next few years is wrong. Our problem is that we do not know which half it is!" Those were the words of a real scientist.
Buddhism is more scientific than modern science. Like science, Buddhism is based on   verifiable cause-and-effect relationships. But unlike science, Buddhism challenges with thoroughness every belief. The famous Kalama Sutta of Buddhism states that one cannot believe fully in "what one is taught, tradition, hearsay, scripture, logic, inference,
appearance, agreement with established opinion, the seeming competence of a teacher, or even in one's own teacher". How many scientists are as rigorous in their
thinking as this? Buddhism challenges everything, including logic.
It is worth
noting that
Quantum
Theory
appeared
quite
illogical,
even to such
great scientists as Einstein, when it was first proposed. It is yet to be disproved. Logic is only as reliable as the assumptions on which it is based. Buddhism trusts only clear
and objective experience.
Clear experience occurs when one's measuring instruments, one's senses, are bright and undisturbed. In Buddhism, this happens when the hindrances of sloth-and-torpor and
restlessness-and-remorse are both overcome. Objective experience is that which is free from all bias. In Buddhism, the three types of bias are desire, ill will and sceptical
doubt. Desire makes one see only what one wants to see, it bends the truth to fit one's preferences. Ill will makes one blind to whatever is disturbing or disconcerting to one's views and it distorts the truth by denial. Sceptical doubt stubbornly refuses to accept those truths, like rebirth, that are plainly valid but which fall outside of one's comforting worldview. In summary, clear and objective experience only happens when the Buddhist 'Five Hindrances' have been overcome. Only then can one trust the data arriving through one's senses.
Because scientists are not free of these five hindrances, they are rarely clear and objective. It is common, for example, for scientists to ignore annoying data, which do not fit their
cherished theories, or else confine such evidence to oblivion by filing it away as an 'anomaly'. Even most Buddhists aren't clear and objective. One has to have recent experience of Jhana to effectively put aside these five hindrances (according to the Nalakapana Sutta, Majjhima No. 68). So only accomplished meditators can claim to be real scientists, that is, clear and objective. Science claims to rely not only on clear and objective
observation, but also on measurement. But what is measurement in science? To measure something, according to the pure science of Quantum Theory, is to collapse the Schroedinger Wave Equation through an act of observation. Moreover, the "un-collapsed" form of the Schroedinger Wave Equation, that is before any measurement is made, is,  perhaps, science's most perfect description of the world. That description is weird! Reality, according to pure science, does not consist of well ordered matter with precise massed,
energies and positions in space, all just waiting to be measured. Reality is the broadest of smudges of all possibilities, only some being more probable than others. Even basic 'measurable' qualities as 'alive' or 'dead' have been demonstrated by science to be invalid sometimes. In the notorious 'Schroedinger's Cat' thought experiment, Prof. Schroedinger's cat was ingeniously placed in a real situation where it was neither dead nor alive, where such measurements became meaningless. Reality, according to Quantum Theory, is beyond measurements. Measuring disturbs reality, it never describes it perfectly. It was
Heisenberg's famous 'Uncertainty Principle' that showed the inevitable error between the real Quantum world and the measured world of pseudo-science. Anyway, how can anyone measure the measurer, the mind? At a recent seminar on Science and Religion, at which I was a speaker, a Catholic in the audience bravely announced that whenever she looks through a telescope at the stars, she feels uncomfortable because her religion is threatened. I commented that whenever a scientist looks the other way round through a telescope, to observe the one who is watching, then they feel uncomfortable because their science is threatened by what is doing the seeing! So what is doing the seeing, what is this mind that eludes modern science? A Grade-One teacher once asked her class "What is the
biggest thing in the world?" One little girl answered "My daddy". A little boy said "An elephant", since he'd recently been to the zoo. Another girl suggested "A mountain". The
six-year-old daughter of a close friend of mine replied, "My eye is the biggest thing in the world"! The class stopped. Even the teacher didn't understand her answer. So the little
philosopher explained "Well, my eye can see her daddy, an elephant, and a mountain too. It can also see so much else. If all of that can fit into my eye, then my eye must be the biggest thing in the world"! Brilliant. However, she was not quite right. The mind can see everything that one's eye can see, and it can also imagine so much more. It can also hear, smell, taste and touch, as well as think. In fact, everything that can be known can fit into the mind. Therefore, the mind must be the biggest thing in the world. Science's mistake is obvious now. The mind is not in the brain, nor in the body. The brain, the body and
the rest of the world, are in the mind! Mind is the sixth sense in Buddhism, it is that which
encompasses the five senses of sight, hearing, smell, taste and touch, and transcends them with its own domain. It corresponds loosely to Aristotle's "common sense" that is
distinct from the five senses. Indeed, ancient Greek philosophy, from where science is said to have its origins, taught six senses just like Buddhism. Somewhere along the historical journey of European thinking, they lost their mind! Or, as Aristotle would put it, they somehow discarded their "common sense"! And thus we got science. We got materialism without any heart. One can accurately say that Buddhism is a science that has kept its heart, and which hasn't lost its mind!
Thus Buddhism is not a belief system. It is a science founded on objective observation, i.e. meditation, ever careful not to disturb the reality through imposing artificial
measurements, and it is evidently repeatable. People have been re-creating the experimental conditions, known as establishing the factors of the Noble Eightfold Path, for over twenty-six centuries now, much longer than science. And those renowned Professors of Meditation, the male and female Arahants, have all arrived at the same conclusion as the Buddha. They verified the timeless Law of Dhamma, otherwise known as Buddhism.
So Buddhism
is the only
real
science, and
I'm happy to
say that I'm
still a
scientist at
heart, only a
much better
scientist than I ever could have been at Cambridge.
Ven. Ajahn Brahmavamso

Thursday, January 5, 2017

জন্মলাভীর অনুভূতি

                                                             
                                                          





                                                             জন্ম-লাভীর অনুভূতি প্রশ্ন-মীমাংসা।

রাজা বলিলেন-ভন্তে, যে জন্মগ্রহণ করে না সে কি কোন দুঃখ বেদনা অনুভব করিতে পারে? স্থবির বলিলেন-কোনটি পারে, কোনটি পারে না। কোন্‌টি পারে, কোন্‌টি পারে না? মহারাজ, কায়িক বেদনা অনুভব করে, চৈতসিক বেদনা অনুভব করে না। তাহা কিরূপ? কায়িক বেদনা উৎপত্তির যাহা হেতু, যাহা প্রত্যয়, সেই হেতু-প্রত্যয়ের উপশম না হইলে কায়িক-দুঃখ অনুভব করিতে হয়। সেইরূপ চৈতসিক দুঃখ উৎপত্তির যাহা হেতু-প্রত্যয় তাহার শান্তিতে চৈতসিক দুঃখের অনুভূতি হয় না। ভগবান বলিয়াছেন-সে একমাত্র কায়িক বেদনা অনুভব করে, কিন্তু মহারাজ চৈতসিক নহে।
তাহা হইলে ভন্তে নাগসেন, যিনি দুঃখ পান, তিনি পরিনির্বাণ লাভ করেন না কেন? মহারাজ, অরহতের নিকট আসক্তিও নাই, বিদ্বেষও নাই। তাঁহারা অপক্ব পাত করেন না। পরিপক্বের জন্য অপেক্ষা করিয়া থাকেন। অর্থাৎ অরহতেরা অকালে নির্বাণ লাভ না করিয়া যথাকালে নির্বাপিত হন। মহারাজ, ধর্ম সেনাপতি সারীপুত্ত স্থবির বলিয়াছেন-
“নাহি অভিনন্দি আমি জীবনেরে কিংবা মরণেরে,
কালের প্রতীক্ষা করি, দাস যথা বেতনের তরে।
নাহি অভিনন্দি আমি জীবনেরে কিংবা মরণেরে,
কালের প্রতীক্ষা করি, জ্ঞানযুক্ত হয়ে স্মৃতি-ভরে।”
ভন্তে আপনি সুদক্ষ।

Tuesday, January 3, 2017

শীল -লক্ষণ প্রশ্ন মীমাংসা


                                                শীল-লক্ষণ প্রশ্ন-মীমাংসা।

ভন্তে, শীলের লক্ষণ কি। মহারাজ, শীলের লক্ষণ প্রতিষ্ঠা। পঞ্চ ইন্দ্রিয় পঞ্চ বল, সপ্তবোধ্যঙ্গ, চারি মার্গ, চারি স্মৃত্যুপস্থান, চারি সম্যক্‌ চেষ্টা, চারি ঋদ্ধিপাদ, চারি ধ্যান, অষ্ট বিমোক্ষ, চারি সমাধি, অষ্ট সমাপত্তি এই সমস্ত কুশল ধর্মের প্রতিষ্ঠা শীল। মহারাজ, শীলে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির কোন কুশল ধর্ম পরিক্ষীণ হয় না।
গৌতম বুদ্ধ

 উপমা প্রদান করুন। মহারাজ, যে কোন উদ্ভিদাদি যে বৃদ্ধি, বিরূঢ়ি, বিপুলতা লাভ করে, সমস্তই পৃথিবীর আশ্রয়ে থাকিয়া। এইরূপ সাধক শীলে স্থিত হইয়া পঞ্চেন্দ্রিয়াদি ভাবনা করে। পুনরায় উপমা প্রদান করুন। মহারাজ, যে কোন বাহুবল সাধিত কাজ পৃথিবীর উপর ভার দিয়া করিতে হয়, সেইরূপ সাধকেরাও শীলে ভার রাখিয়া ভাবনা সমাধির অনুষ্ঠান করে। পুনরায় উপমা প্রদান করুন। মহারাজ, যখন সুতার একটি নগর নির্মাণে রত হয়, তখন সে প্রথমে স্থানটি পরিষ্কার করে, গোঁজা কাঁটা ফেলিয়া দেয়, স্থানটি সমান করে, তৎপর চতুষ্কোণ রাস্তা-ঘাট ঠিক করিয়া নগর নির্মাণ করে। এইরূপ সাধকও শীলাশ্রয়ে যাবতীয় কণ্টকাদি নির্মূল করিয়া ভাবনা-সমাধির অনুষ্ঠান করে। পুনরায় উপমা প্রদান করুন। মহারাজ, যেমন কোন বাজিকর তাহার শিল্প দেখাইতে ইচ্ছা করে, তখন সে পৃথিবী খনন করিয়া পাথর চাঁড়ের টুকরা ফেলিয়া ভূমিটাকে সমান করে, সেই সম মৃদু ভূমিতে বাজি খেলিয়া থাকে। সাধকও শীলবিশুদ্ধিতে রত থাকিয়া ভাবনা সমাধির অনুষ্ঠান করে।
মহারাজ, ভগবান দেশনা করিয়াছেন :-
                                                           জ্ঞানবান নর হয়ে শীলে প্রতিষ্ঠিত
                                                           সমাধি ও বিদর্শনভাবে অনিবার,
                                                           বীর্যবান বুদ্ধিমান ভিক্ষু বুদ্ধ-সুত
                                                           বেণুজটা তুল্য তৃষ্ণা করেন সংহার।
                                                           ধরণীতে প্রাণীদের প্রতিষ্ঠার তুল্য
                                                           কুশল বৃদ্ধির মূল যাহা আছে আর
                                                           জিনের শাসনে যাহা মুখ্য বিবেচিত
                                                           প্রাতিমোক্ষ শীলস্কন্ধ অতীব উত্তম।
                                                                                         ভন্তে, আপনি সুদক্ষ।

পুণ্যফল সূত্র

                                                 পুণ্যফল সূত্র (প্রথম)

৫১. শ্রাবস্তী নিদান :
“হে ভিক্ষুগণ, চার প্রকারে পুণ্যফল, কুশলসম্পদ, সুখাহার, স্বর্গসুখ, সুখজনকফল, স্বর্গ সংবর্তনিক; মঙ্গলার্থে, প্রীতিকরার্থে, প্রফুলস্নার্থে, হিতার্থে, সুখার্থে সংবর্তিত হয়। সেই চার প্রকার কী কী? যথা :
চীবর পরিভোগকালে কোনো ভিক্ষু যদি অপ্রমাণ চিত্ত সমাধি উৎপন্ন করে, তাহলে তার নিকট অপ্রমেয় পুণ্যফল, কুশলসম্পদ, সুখাহার, স্বর্গসুখ, সুখজনকফল, স্বর্গসংবর্তনিক; মঙ্গলার্থে, প্রীতিকরার্থে, প্রফুলস্নার্থে হিতার্থে, সুখার্থে সংবর্তিত হয়।
পিণ্ডপাত পরিভোগকালে কোনো ভিক্ষু যদি অপ্রমাণ চিত্ত সমাধি উৎপন্ন করে, তাহলে তার নিকট অপ্রমেয় পুণ্যফল, কুশলসম্পদ, সুখাহার, স্বর্গসুখ, সুখজনকফল, স্বর্গসংবর্তনিক; মঙ্গলার্থে, প্রীতিকরার্থে, প্রফুলস্নার্থে হিতার্থে, সুখার্থে সংবর্তিত হয়।
শয়নাসন পরিভোগকালে কোনো ভিক্ষু যদি অপ্রমাণ চিত্ত সমাধি উৎপন্ন করে, তাহলে তার নিকট অপ্রমেয় পুণ্যফল, কুশলসম্পদ, সুখাহার, স্বর্গসুখ, সুখজনকফল, স্বর্গসংবর্তনিক; মঙ্গলার্থে, প্রীতিকরার্থে, প্রফুলস্নার্থে হিতার্থে, সুখার্থে সংবর্তিত হয়।
পূজনীয় ভিক্ষুসংঘকে মঞ্চে নেবার প্রস্তুতি।

গিলান-প্রত্যয়-ভৈষজ্য উপকরণ পরিভোগকালে কোনো ভিক্ষু যদি অপ্রমাণ চিত্ত সমাধি উৎপন্ন করে, তাহলে তার নিকট অপ্রমেয় পুণ্যফল, কুশলসম্পদ, সুখাহার, স্বর্গসুখ, সুখজনকফল, স্বর্গসংবর্তনিক; মঙ্গলার্থে, প্রীতিকরার্থে, প্রফুলস্নার্থে হিতার্থে, সুখার্থে সংবর্তিত হয়।
এই চার প্রকারে পুণ্যফল, কুশলসম্পদ, সুখাহার, স্বর্গসুখ, সুখজনকফল, স্বর্গসংবর্তনিক; মঙ্গলার্থে, প্রীতিকরার্থে, প্রফুলস্নার্থে হিতার্থে, সুখার্থে সংবর্তিত হয়।
ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকারে পুণ্যফল, কুশলসম্পদে সমন্বিত আর্যশ্রাবকের পুণ্যের পরিমাণ নির্ণয় করা দুঃসাধ্যত্মতার নিকট এ পরিমাণ পুণ্যফল, কুশলসম্পদ, সুখাহার, স্বর্গসুখ, সুখজনক ফল, স্বর্গসংবর্তনিক; মঙ্গলার্থে, প্রীতিকরার্থে, প্রফুলস্নার্থে, হিতার্থে, সুখার্থে, সংবর্তিত হয়। তাই এটা অসঙ্খেয়, অপ্রমেয়, মহাপুণ্যরাশির সংখ্যায় পরিগণিত হয়।
যেমন মহাসমুদ্রের জলের পরিমাণ নির্ণয় করা দুঃসাধ্যত্মএত পাত্র জল, এত শত পাত্র জল, এত হাজার পাত্র জল, এত লক্ষ পাত্র জল; তাই এটা অসঙ্খেয়, অপ্রমেয় মহা জলরাশির সংখ্যায় গণিত হয়। এভাবেই ভিক্ষুগণ, এই চার প্রকারে পুণ্যফল, কুশলসম্পদে সমন্বিত আর্যশ্রাবকের পুণ্যের পরিমাণ নির্ণয় করা দুঃসাধ্যত্মতার নিকট এ পরিমাণ পুণ্যফল, কুশলসম্পদ সুখাহার, স্বর্গসুখ, সুখজনক ফল, স্বর্গসংবর্তনিক; মঙ্গলার্থে, প্রীতিকরার্থে, প্রফুলস্নার্থে, হিতার্থে, সুখার্থে, সংবর্তিত হয়। তাই এটা অসঙ্খেয়, অপ্রমেয়, মহাপুণ্যরাশির সংখ্যায় পরিগণিত হয়।”
                                       “ভয়ংকর মহাসমুদ্রের বিশাল জলরাশি,
                                        সেথায় বিদ্যমান কিন্তু উৎকৃষ্ট রত্নরাজি।
                                        বারণ করে না নদী কেহকে জল আহরণে,
                                       সতত প্রবাহিত হয় যেন সমুদ্র পানে।
                                       এভাবে পণ্ডিত নর সম্পাদনে বহুদান,
                                       অন্ন-বস্ত্র, পানীয় আর উত্তম শয্যাসন;
                                       পুণ্যধারা উপনীত, মহাসমুদ্রে যেমন।”

Monday, January 2, 2017

প্রজ্ঞা লক্ষণ কীরূপ?

                                                   
     
                                                        প্রজ্ঞা-লক্ষণ প্রশ্ন-মীমাংসা

রাজা বলিলেন-ভন্তে, প্রজ্ঞার লক্ষণ কি? মহারাজ, আমি পূর্বেও ত বলিয়াছি, প্রজ্ঞার ছেদন লক্ষণ, তবে অবভাসন লক্ষণও প্রজ্ঞাতে আছে।
ভন্তে, সেই প্রজ্ঞার অবভাসন লক্ষণ কিরূপ? মহারাজ, উৎপত্তিশীল প্রজ্ঞা অবিদ্যার অন্ধকারকে ধ্বংস করে, বিদ্যার আলোক উৎপাদন করে। জ্ঞানালোকে প্রবেশ করায়, আর্যসত্যসমূহ প্রকাশিত করে। তৎপর সাধক অনিত্য-দুঃখ-অনাত্মা লক্ষণকে সম্যক প্রজ্ঞাযোগে দর্শন করেন।
উপমা প্রদান করুন। মহারাজ, কোন পুরুষ প্রদীপ হস্তে অন্ধকার গৃহে প্রবিষ্ট হওয়া মাত্রেই অন্ধকার চলিয়া যায়, দীপ্তি উৎপাদন করে, আলোকটা সমস্ত গৃহে পরিব্যাপ্ত হয়। রূপসমূহ প্রকাশিত হয়। এই প্রকারই মহারাজ প্রজ্ঞার অবভাসন লক্ষণ। ভন্তে, আপনি সুদক্ষ।

ষোড়শ স্মৃতিজ্ঞান কীভাবে উৎপন্ন হয়?


         রাজা বলিলেন-ভন্তে, কত প্রকারে স্মৃতি উৎপন্ন হয়? মহারাজ, ষোল প্রকারে। সেই ষোল প্রকার কি কি?
অভিজ্ঞানে, কার্যতঃ, স্থূল বিজ্ঞানে, হিত বিজ্ঞানে, অহিত বিজ্ঞানে, সাদৃশ্য নিমিত্তে, বৈসাদৃশ্য নিমিত্তে, কথা বিজ্ঞানে, লক্ষণে, স্মরণে, মুদ্রাতে, গণনাতে, ধারণে, ভাবনায়, পুস্তক নিবন্ধনে, উপনিক্ষেপে ও অনুভূতিতে স্মৃতি উৎপন্ন হইয়া থাকে।
অভিজ্ঞানে স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? মহারাজ, আয়ুষ্মান আনন্দ, উপাসিকা খুজ্জুত্তরা ও অন্যান্য মহানুভবগণ জাতিস্মর জ্ঞানসম্পন্ন ছিলেন। তাঁহারা পূর্বকৃত বিষয় ও জন্ম স্মরণ করিতে পারিতেন। এই প্রকারে অভিজ্ঞানে স্মৃতি উৎপন্ন হয়।
কার্যতঃ স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? স্বভাবতঃ কাহারও নিকট ভ্রম বেশী হয়, তাহাকে কেহ স্মরণ করাইবার জন্য কোন ব্যবস্থা করিয়া দিলে, সে কার্য করিতে পারে, ইহাকে কার্যদ্বারা স্মৃতি বলে।
স্থূল বিজ্ঞানে স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? যখন রাজ্যে অভিষিক্ত হয়, আর স্রোতাপত্তি ফল প্রাপ্ত হয়, ইহাকে স্থূল বিজ্ঞান-স্মৃতি বলে।
হিত বিজ্ঞান-স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়। পূর্বে যেই বিষয়ে সুখ লাভ করা যায়, তাহা পরে স্মরণ হয় যে, অমুক বিষয়ে সুখ পাইয়াছিলাম। ইহাকে হিত বিজ্ঞান-স্মৃতি বলে।
অহিত বিজ্ঞান-স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? পূর্বে যেই বিষয়ে দুঃখ লাভ করা যায়, তাহা পরে স্মরণ হয় যে, অমুক বিষয়ে দুঃখ পাইয়াছিলাম। ইহাকে অহিত বিজ্ঞান-স্মৃতি বলে।
সাদৃশ্য নিমিত্ত স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? নিজের মাতা-পিতা ভাই-ভগ্নির ন্যায় কোন লোক দেখিয়া মাতা-পিতা প্রভৃতিকে, ও কোন উষ্ট্র, গরু, গর্দভ দেখিয়া অন্য তাদৃশ উষ্ট্র, গরু, গর্দভকে স্মরণ করে। ইহাকে সাদৃশ্য নিমিত্ত স্মৃতি বলে।
বৈসাদৃশ্য নিমিত্ত স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? অমুকের এইরূপ বর্ণ, এইরূপ শব্দ, এইরূপ গন্ধ, এইরূপ রস, এইরূপ স্পর্শ এই প্রকার স্মরণ করে। ইহাকে বৈসাদৃশ্য নিমিত্ত স্মৃতি বলে।
মহাকারুণিক বুদ্ধ
   

কথা অভিজ্ঞান স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? যে স্বভাবতঃ ভ্রম পূর্ণ, তাহাকে অন্য কেহ স্মরণ করাইয়া দেয়, তদ্দ্বারা সে স্মরণ করে। ইহাকে কথা অভিজ্ঞান স্মৃতি বলে।
লক্ষণ-স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? যে বলীবর্দদিগকে কোন চিহ্নদ্বারা ও লক্ষণদ্বারা জানিতে পারে, ইহাকে লক্ষণ-স্মৃতি বলে।
স্মরণ-স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? স্বভাবতঃ যাহার ভুল বেশী হয়, তাহাকে কেহ বলে-“স্মরণ কর, স্মরণ কর” এই বলিয়া মনে করিয়া দেয়। ইহাকে স্মরণ-স্মৃতি বলে।
মুদ্রা-স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? লিপিদ্বারা শিক্ষা করিয়া জানিতে পারে যে-এই অক্ষরের পর এই অক্ষর প্রয়োগ করা উচিত। ইহাকে মুদ্রা-স্মৃতি বলে।
গণনা-স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়?
 গণনাদ্বারা শিক্ষা করে বলিয়া, গণকেরা বহু সংখ্যা গণিতে পারে। ইহাকে গণনা-স্মৃতি বলে।
ধারণা-স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? ধারণাদ্বারা শিক্ষা করে বলিয়া, ধারণাকারীরা বহু বিষয় ধারণা করিতে পারে। ইহাকে ধারণা-স্মৃতি বলে।
ভাবনা-স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? এই বুদ্ধশাসনের মধ্যে ভিক্ষুরা অনেক প্রকার পূর্বনিবাসকে অনুস্মরণ করিয়া থাকে। যেমন-এক জন্ম, দুই জন্ম...সেই সেই জন্মে আকার কিরূপ ছিল, নাম কি ছিল, কোথায় ছিল, কি কার্য করিত, এই সমস্ত অনুস্মরণ করিতে পারে। ইহাকে ভাবনা-স্মৃতি বলে।
পুস্তক-নিবন্ধন স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? রাজারা অনুশাসনের নিয়মাবলী স্মরণ করিবার জন্য বলেন-‘একটি পুস্তক আনয়ন কর’ সেই পুস্তকদ্বারা তাঁহারা স্মরণ করেন। ইহাকে পুস্তক-নিবন্ধন স্মৃতি বলে।
উপনিক্ষেপ-স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? উপনিক্ষিপ্ত ভাণ্ড দেখিয়া স্মরণ হয় যে ‘আমি ইহা রাখিয়াছিলাম।’ ইহাকে উপনিক্ষেপ-স্মৃতি বলে।
অনুভূতি-স্মৃতি কিরূপে উৎপন্ন হয়? পূর্বে দেখিয়াছে বলিয়া রূপটি, শুনিয়াছে বলিয়া শব্দটি, ঘ্রাণ লইয়াছিল বলিয়া গন্ধটি, আস্বাদন করিয়াছিল বলিয়া রসটি, স্পর্শ করিয়াছিল বলিয়া স্পর্শটি ও জানা ছিল বলিয়া ধর্মটি স্মরণ করে। ইহাকে অনুভূতি-স্মৃতি বলে।
মহারাজ, এই ষোল প্রকারে স্মৃতি উৎপন্ন হয়। ভন্তে, আপনি সুদক্ষ

Sunday, January 1, 2017

সর্বজ্ঞতা প্রশ্ন-মীমাংসা ও যুক্তিতর্ক


                                                               সর্বজ্ঞ প্রশ্ন-মীমাংসা

ভন্তে, বুদ্ধ সর্বজ্ঞ কি? হাঁ মহারাজ, সর্বজ্ঞ। তবে ভগবানের জ্ঞানদর্শন সতত প্রত্যুপস্থিত থাকে না, তাঁহার সর্বজ্ঞতা জ্ঞান পরিচিন্তন প্রতিবদ্ধ অর্থাৎ সর্বজ্ঞতা জ্ঞান প্রভাবে যখন তিনি কোন বিষয় জাানিতে ইচ্ছা করেন, যতদূর ইচ্ছা ততদূর জানিতে সমর্থ হন। তাহা হইলে ভন্তে, বুদ্ধ সর্বজ্ঞ নহেন। যদি তাঁহার সর্বজ্ঞতা জ্ঞানও অনুসন্ধানে রত হয়। মহারাজ, শতবাহ (১২০ মণ) অর্ধ চূল, সপ্ত অর্মণ (২৮ মণ) দুই তুম্ব (৮ সের) ব্রীহি এক হস্ততুরীক্ষণে যেই চিত্ত প্রবর্তিত হয়, এই চিত্ত লক্ষ্য করিয়া মাত্রা স্থাপন করিলে এতগুলি ব্রীহি নিঃশেষ হইয়া যাইবে।
প্রথম চিত্ত বিভাগ এই :- এই যে মহারাজ, সপ্তবিধ চিত্ত প্রবর্তিত হয়, তন্মধ্যে যেই চিত্ত সকাম, সদ্বেষ, সমোহ, সক্লেশ এবং যেই কায়, শীল, চিত্ত, প্রজ্ঞা অভাবিত, সেই চিত্ত গুরুভাবে উৎপন্ন হয়, ধীরে প্রবর্তিত হয়, কারণ কি? চিত্ত অভাবিত বলিয়া। যেমন মহারাজ, বিশাল, বিস্তৃত শাখা-পত্রে জটাজুট বাঁশ আকর্ষণ করিলে ভারী বোধ হয়, আস্তে নোয়াইয়া পড়ে, কারণ কি? শাখায় শাখায় সংযুক্ত বলিয়া। এই প্রকারে মহারাজ, চিত্ত কাম-দ্বেষ-মোহ-ক্লেশ যুক্ত হইলে এবং কায়, চিত্ত, শীল, প্রজ্ঞা, অভাবিত হইলে, সেই চিত্ত গুরুভাবে উৎপন্ন হয়, ধীরে প্রবর্তিত হয়, কারণ কি? ক্লেশদ্বারা পরস্পর সংযুক্ত বলিয়া। ইহা প্রথম চিত্ত বিভাগ।

মহামুনি গৌতম

দ্বিতীয় চিত্ত বিভাগ এই :-অপায় গমনবদ্ধ, সদ্দৃষ্টিপ্রাপ্ত শাস্তাশাসন জ্ঞাত যেই স্রোতাপন্নগণ আছেন। তাঁহাদের সেই চিত্ত ত্রিবিধ স্থানে শীঘ্র উৎপন্ন হয়, শীঘ্র প্রবর্তিত হয়। তথাপি ঊর্ধ্বতন ভূমিতে (আর্য মার্গে) গুরুভাবে উৎপন্ন হয়, ধীরে প্রবর্তিত হয়। কারণ কি? ত্রিবিধ স্থানে চিত্তের পরিশুদ্ধি থাকিলেও ঊর্ধ্বতন ক্লেশসমূহ নষ্ট হয় নাই বলিয়া। যেমন মহারাজ, যেই বাঁশের তিন পর্ব পর্যন্ত গ্রনি' পরিশুদ্ধ, তাহার উপরে শাখা জটাজুট, সেই বাঁশ ধরিয়া টানিলে তিন পর্ব পর্যন্ত হাল্কা থাকায় শীঘ্র আসে, তাহার উপরে শক্ত, কারণ কি? নিম্নে পরিশুদ্ধ, উপরের শাখা জটাজুট বলিয়া। এই প্রকার মহারাজ, অপায় গমনবদ্ধ সদ্দৃষ্টিপ্রাপ্ত ও শাস্তাশাসন জ্ঞাত স্রোতাপন্নগণের সেই চিত্ত ত্রিবিধ স্থানে শীঘ্র উৎপন্ন হয়, শীঘ্র প্রবর্তিত হয়। ঊর্ধ্বতন সকৃদাগামী ভূমিতে গুরুভাবে উৎপন্ন হয়, ধীরে প্রবর্তিত হয়। কারণ কি? ত্রিবিধ স্থানে পরিশুদ্ধ বলিয়া এবং তদুপরি ক্লেশসমূহ নষ্ট হয় নাই বলিয়া। ইহা দ্বিতীয় চিত্ত বিভাগ।
তৃতীয় চিত্ত বিভাগ এই-মহারাজ, যেই সকৃদাগামিগণের কাম-দ্বেষ-মোহ তনুভূত বা হাল্কা, তাহাদের সেই চিত্ত পঞ্চস্থানে শীঘ্র উৎপন্ন হয়, শীঘ্র প্রবর্তিত হয়। তদুপরি অনাগামী ভূমিতে গুরুভাবে উৎপন্ন হয়, ধীরে প্রবর্তিত হয়, কারণ কি? পঞ্চস্থানে পরিশুদ্ধ বলিয়া, তদুপরি ক্লেশসমূহ নষ্ট হয় নাই বলিয়া। যেমন বাঁশের পাঁচটি পর্ব গ্রনি' পরিশুদ্ধ, উপরের শাখা জটাজুট, উহা টানিলে পঞ্চ পর্ব পর্যন্ত শীঘ্র নামিয়া আসে, তদুপরি শক্ত। কারণ কি? নিম্নে পরিশুদ্ধ, উপরের শাখা জটাজুট বলিয়া। মহারাজ, এই প্রকার যেই সকৃদাগামিগণের কাম-দ্বেষ-মোহ তনুভূত, তাঁহাদের চিত্ত পঞ্চস্থানে শীঘ্র উৎপন্ন হয়, শীঘ্র প্রবর্তিত হয়... ইহা তৃতীয় চিত্ত বিভাগ।
চতুর্থ চিত্ত বিভাগ এই-মহারাজ, যাঁহারা অনাগামী, যাঁহাদের নিম্নভাগীয় পঞ্চ সংযোজন নষ্ট হইয়াছে, তাঁহাদের সেই চিত্ত দশ স্থানে শীঘ্র উৎপন্ন হয়, শীঘ্র প্রবর্তিত হয়, উপরি অরহৎ ভূমিতে গুরুভাবে উৎপন্ন হয়, ধীরে প্রবর্তিত হয়। কারণ কি? দশ স্থানে চিত্ত পরিশুদ্ধ বলিয়া, তদুপরি ক্লেশসমূহ নষ্ট হয় নাই বলিয়া। বাঁশের দশপর্ব উপমা দ্রষ্টব্য...ইহা চতুর্থ চিত্ত বিভাগ।
পঞ্চম চিত্ত বিভাগ এই-মহারাজ, যাঁহারা অরহৎ ক্ষীণাসব ধৌতমল, ক্লেশকে বমি করিয়াছেন, ব্রহ্মচর্য পূর্ণ করিয়াাছেন, কর্তব্য কার্য শেষ করিয়াছেন, পঞ্চস্কন্ধ ভার নামাইয়া ফেলিয়াছেন, নির্বাণ-সার প্রাপ্ত, ভবসংযোজন ক্ষয় প্রাপ্ত, প্রতিসম্ভিদা জ্ঞান প্রাপ্ত ও শ্রাবক ভূমিতে পরিশুদ্ধি লাভ করিয়াছেন, তাঁহাদের চিত্ত শ্রাবক বিষয়ে শীঘ্র উৎপন্ন হয়, শীঘ্র প্রবর্তিত হয়। পচ্চেক বুদ্ধভূমিতে গুরুভাবে উৎপন্ন হয়, ধীরে প্রবর্তিত হয়। কারণ কি? শ্রাবক বিষয়ে পরিশুদ্ধ বলিয়া, পচ্চেক বুদ্ধভূমিতে অপরিশুদ্ধ বলিয়া। যেমন পরিশুদ্ধ বাঁশ শীঘ্র নামিয়া আসে...ইহা পঞ্চম চিত্ত বিভাগ।
ষষ্ঠ চিত্ত বিভাগ এই-মহারাজ, যাঁহারা পচ্চেক বুদ্ধ, স্বয়ংম্ভু আচার্যহীন, একাচারী, গণ্ডার তুল্য বিচরণশীলী, আপন বিষয়ে পরিশুদ্ধ, বিমল চিত্ত, তাঁহাদের সেই চিত্ত আপন বিষয়ে শীঘ্র উৎপন্ন হয়, শীঘ্র প্রবর্তিত হয়, কিন্তু সর্বজ্ঞ বুদ্ধ ভূমিতে গুরুভাবে উৎপন্ন হয়, ধীরে প্রবর্তিত হয়। কি কারণে? আপন বিষয়ে পরিশুদ্ধ বলিয়া এবং সর্বজ্ঞ বুদ্ধ বিষয়ের মহত্ত্বতা হেতু। যেমন মহারাজ, কোন পুরুষ নিজের দেশে ক্ষুদ্র নদী রাত্রিতে হউক দিনেতে হউক ইচ্ছামত নির্ভয়ে পার হইয়া যায়, কিন্তু পরভাগে গম্ভীর, বিস্তৃত, অগাধ, অপার মহাসমুদ্র দেখিয়া ভয় পাইয়া থাকে, যাইতে চাহে না ও নামিতে সাহস করে না। কি কারণে? নিজের দেশে পরিচয় আছে বলিয়া এবং মহাসমুদ্র মহৎ বলিয়া। এই প্রকার পচ্চেক বুদ্ধগণ আপন বিষয়ে পরিচিত, সর্বজ্ঞতা বিষয়ে অপরিচিত...ইহা ষষ্ঠ চিত্ত বিভাগ।
সপ্তম চিত্ত বিভাগ এই-মহারাজ, যাঁহারা সম্যক্‌সম্বুদ্ধ, সর্বজ্ঞ, দশবলধর, চারিবৈশারদ্য প্রাপ্ত, আঠার প্রকার বুদ্ধ-ধর্মে সুপরিচিত, অনন্ত জিন, অনাবরণ জ্ঞানী, তাঁহাদের সেই চিত্ত সকল সময় শীঘ্র উৎপন্ন হয়, শীঘ্র প্রবর্তিত হয়, কি কারণে? সর্ববিষয়ে পরিশুদ্ধ বলিয়া। যেমন মহারাজ, সুধৌত, বিমল, গ্রনি'হীন, সূক্ষ্মধার, সরল, অবক্র, অকুটীল, দূঢ়চাপ সমারূঢ় নারাচ, (লৌহ নির্মিত বাণ বিশেষ) সূক্ষ্ম, ক্ষৌম, কার্পাস কম্বলে জোড়ে পড়িলে আস্তে যায় কি, অথবা লাগিয়া থাকে কি? না ভন্তে। কি কারণে? বস্ত্রও সূক্ষ্ম বলিয়া, নারাচও জোড়ে পড়িয়াছে বলিয়া। এই প্রকার মহারাজ, অনন্ত গুণ-সম্পন্ন ভগবানের চিত্ত সর্ববিষয়ে শীঘ্র উৎপন্ন হয় ও প্রবর্তিত হয়। কি কারণে? সর্ববিষয়ে পরিশুদ্ধ বলিয়া। ইহা সপ্তম চিত্ত বিভাগ।
মহারাজ, সর্বজ্ঞ বুদ্ধগণের সেই চিত্ত গণনাক্রমে ছয়টি চিত্ত অতিক্রম করিয়া (সপ্তম চিত্ত হইতে) অসংখ্য গুণ পর্যন্ত পরিশুদ্ধ ও লঘু। যেহেতু ভগবানের চিত্ত পরিশুদ্ধ ও শীঘ্রগামী, তাই যমক প্রতিহার্য ঋদ্ধি দেখাইতে পারেন। এই ঋদ্ধি প্রদর্শনে বুঝিতে পারেন, ভগবানে চিত্ত কিরূপ লঘু পরিবর্তনশীল। এখানে তদতিরিক্ত কিছুই বলিবার নাই। সেই ঋদ্ধি প্রতিহার্যও বুদ্ধের চিত্ত গণনার সঙ্গে তুলনা করিলে কলা, কলাভাগও উপমিত হয় না। ভগবানের সর্বজ্ঞতা জ্ঞান “আবর্জন (চিন্তা) প্রতিবদ্ধ” সর্বজ্ঞতা জ্ঞান প্রভাবে যত ইচ্ছা, তত জানিতে তিনি সমর্থ। যেমন মহারাজ, কোন পুরুষ এক হাতে একটা জিনিস লইয়া শীঘ্র অন্য হাতে লইতে পারে, বিবৃত মুখে কথা বলিতে পারে, মুখগত ভোজন গিলিতে পারে, চক্ষু বুঝিতে ও মেলিতে পারে, বাহু সঙ্কোচন ও প্রসারণ করিতে পারে, তাহাতেও কিছু গৌণ হয়, তদপেক্ষা ভগবান সর্বজ্ঞতা জ্ঞান প্রভাবে শীঘ্রই যাহা ইচ্ছা তাহা জানিতে পারেন। চিন্তা করিতে যেই সময়টুকু লাগে, তাহার দ্বারা ভগবান সর্বজ্ঞ নহেন, এইরূপ বলা ঠিক নহে। তথাপি ভন্তে, চিন্তারও ত একটু অন্বেষণ আছে। আমাকে অন্য উপায়ে বুঝাইয়া দিন।
যেমন মহারাজ, প্রভূত ধন-ধান্য-বিত্ত-উপকরণ সম্পন্ন কোন মহাধনীর গৃহে যথেষ্ট ধান, যব, চাউল, তিল, মুগ, মাস, তৈল, নবনীত, ক্ষীর, দধি, মধু, মিঠা, কলসী, পাত্র আছে, বাড়ীতে যাহা রান্নাবান্না হইয়াছিল, সব খাওয়া হইয়াছে, এমন সময় প্রবাসী আসিয়া হাজির হইল, তাহারাও ভাত খাইতে চায়। কাজেই পাচক ভাণ্ড হইতে চাউল লইয়া ভাত পাক করিল। তাহা হইলে কি মহারাজ, আপনি এইরূপ বলিবেন-সেই বাড়ীতে ভাত না থাকায় পুনঃ পাক করিয়া দিতেছে বলিয়া গৃহস্বামী নির্ধনী বা কৃপণ? না ভন্তে। চক্রবর্তী রাজার ঘরেও অসময়ে এইরূপ হইয়া থাকে। ক্ষুদ্র গৃহপতির আর কি কথা! এই প্রকার মহারাজ, ভগবানের স্মরণ করিতে যেইটুকু সময় লাগে, তাহার দ্বারা যত ইচ্ছা তত জানিতে পারেন। মহারাজ, একটি গাছে এমন ফল ধরিয়াছে যে, ফলভারে গাছটি নোয়াইয়া পড়িয়াছে, ফল-পিণ্ড পিণ্ড হইয়া রহিয়াছে, কিন্তু একটি ফলও মাটীতে পড়ে নাই। তাহা হইলে কি আপনি বলিবেন, এই গাছ হইতে একটি ফলও পরে নাই, কোথায় গাছে ফল আছে? না ভন্তে; এই ফলের পতন ধ্রর্বব, যখন পড়িবে তখন যত ইচ্ছা তত পাওয়া যাইবে। এই প্রকার মহারাজ, বুদ্ধের চিন্তাপ্রসূত সর্বজ্ঞতা জ্ঞানে যত ইচ্ছা তত জানিতে পারেন। ভন্তে, তবে কি তিনি চিন্তা করামাত্রেই যত ইচ্ছা তত জানিতে পারেন? হাঁ মহারাজ। চক্রবর্তীরাজ যখন চক্ররত্ন আসুক বলিয়া স্মরণ করেন, তাঁহার স্মরণ করামাত্রেই তখন চক্ররত্ন উপস্থিত হইয়া থাকে। এইরূপ বুদ্ধের চিন্তিত চিন্তিতক্ষণেই যাহা ইচ্ছা তাহা জানিতে পারেন। ভন্তে, এত দৃঢ়ভাবে কারণ প্রদর্শন করিলেন যে, বুদ্ধ সর্বজ্ঞ; আমিও সর্বজ্ঞ বলিয়া গ্রহণ করিলাম।